ঢাকা, ২০২৬-০৮-০২ | ১৭ শ্রাবণ,  ১৪৩৩

পরিকল্পিত শিল্পনগরে শিল্প গড়লে জ্বালানি সরবরাহের দায়িত্ব নেবে সরক

প্রবাস নিউজ ডেস্কঃ

প্রকাশিত: ০১:০৫, ৬ আগস্ট ২০২৩  

পরিকল্পিত শিল্পনগরে শিল্প গড়লে জ্বালানি সরবরাহের দায়িত্ব নেবে সরকার

এফবিসিসিআই আয়োজিত ’বাংলাদেশের প্রাকৃতিক সম্পদের সর্বোত্তম ব্যবহার: বঙ্গবন্ধুর দর্শন’ শীর্ষক এক সেমিনারে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ

শিল্পে বিদ্যমান জ্বালানিসংকট থেকে দ্রুত উত্তরণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। সে জন্য বহুমুখী জ্বালানি মহাপরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। যার আওতায় নতুন নতুন কূপ খনন, বায়ুবিদ্যুৎ উৎপাদন, তেল আমদানির জন্য সিঙ্গেল মুরিং পাইপলাইন স্থাপনসহ নবায়নযোগ্য জ্বালানির উৎপাদন বৃদ্ধির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

আজ শনিবার সকালে এফবিসিসিআই আয়োজিত ‘বাংলাদেশের প্রাকৃতিক সম্পদের সর্বোত্তম ব্যবহার বঙ্গবন্ধুর দর্শন’ শীর্ষক এক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ। এফবিসিসিআইয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, গৃহস্থালি এবং শিল্পের জন্য সুলভমূল্যে নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানির সরবরাহ নিশ্চিত করতে সরকার কাজ করছে। সরকারের এই লক্ষ্য বাস্তবায়নে উদ্যোক্তাদের পরিকল্পিত শিল্পনগরীতে কলকারখানা ও শিল্প স্থাপনের আহ্বান জানান তিনি। নসরুল হামিদ বলেন, যত্রতত্র শিল্প স্থাপনের কারণে দেশে গ্যাসের প্রচুর অপব্যবহার হচ্ছে। উদ্যোক্তাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘আপনারা সরকারের পরিকল্পিত শিল্পনগরীতে কলকারখানা স্থাপন করুন, সেখানে নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহের দায়িত্ব আমাদের।’

আগে দেশে তেল সংরক্ষণ সক্ষমতা মাত্র ৩০ দিনের থাকলেও বর্তমানে সেটি বাড়িয়ে ৪৫ দিনে উন্নীত করা হয়েছে জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, অল্প কিছুদিনের মধ্যে বাংলাদেশের তেল সংরক্ষণ সক্ষমতা ৯০ দিনে উন্নীত করা হবে।

সেমিনারে স্বাগত বক্তব্যে এফবিসিসিআই সভাপতি মো. জসিম উদ্দিন বলেন, ‘চলমান বৈশ্বিকসংকটে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে জ্বালানি খাত। জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধিতে বিশ্ব বাজারে প্রতিযোগিতা সক্ষমতায় পিছিয়ে পড়ছে স্থানীয় উদ্যোক্তারা। এমন পরিস্থিতিতে জ্বালানির আমদানিনির্ভরতা কমিয়ে স্থানীয় গ্যাস, কয়লা ও খনিজ সম্পদ উত্তোলনে সরকারকে জরুরি ভিত্তিতে পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।

এবিসিসিআইয়ের জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি মোস্তফা আজাদ চৌধুরী বলেন, ‘রংপুর অঞ্চলে যেসব কয়লাখনির সন্ধান মিলেছে, সেগুলো থেকে কয়লা উত্তোলনে সরকারকে রাজনৈতিকভাবে সাহসী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে হবে। প্রয়োজনে খনিসংলগ্ন এলাকার জনগোষ্ঠীর পুনর্বাসন ব্যবস্থা করে সেখানে বৃহৎ আকারে কয়লা উত্তোলনে যেতে হবে। এতে করে দেশের জ্বালানিসংকটের চাপ কিছুটা কমতে পারে।’

সেমিনারে জ্বালানি নিরাপত্তা বিষয়ে নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম ও পরিকল্পনা তুলে ধরেন জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের সচিব  মো. খায়েরুজ্জামান মজুমদার ও বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম এক্সপ্লোরেশন অ্যান্ড প্রোডাকশন কোম্পানি লিমিটেডের (বাপেক্স) ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শোয়েব। সেমিনারে প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক বদরূল ইমাম।

এ সময় অন্যদের মধ্যে এফবিসিসিআইয়ের সহসভাপতি মো. আমিন হেলালী, ঢাকা চেম্বারের সভাপতি ব্যারিস্টার মো. সামির সাত্তার, বাংলাদেশ ভূতাত্ত্বিক জরিপ অধিদপ্তরের পরিচালক মোহাম্মদ আবদুল আজিজ পাটোয়ারীসহ জ্বালানি বিশেষজ্ঞ ও ব্যবসায়ী নেতারা উপস্থিত ছিলেন। ...

সর্বশেষ
জনপ্রিয়