ঢাকা, ২০২৬-০৭-২৬ | ১০ শ্রাবণ,  ১৪৩৩

রপ্তানি রেমিট্যান্সে প্রণোদনা অব্যাহত রাখতে হবে

প্রবাস নিউজ ডেস্কঃ

প্রকাশিত: ০৩:০৯, ২৭ মে ২০২৪  

বাজেটে রপ্তানি খাত ও রেমিট্যান্সে প্রণোদনা অন্তত আরও কয়েক বছর অব্যাহত রাখতে হবে। অর্থনীতির প্রধান এই দুই খাতে প্রয়োজনীয় শক্তি অর্জনে এ সহায়তা প্রয়োজন। যাতে স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) কাতার থেকে বাংলাদেশের উত্তরণ মসৃণ ও টেকসই হয়, স্থিতিশীল থাকে সামষ্টিক অর্থনীতি। আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় সক্ষমতা বাড়াতে খাত দুটিতে দক্ষ জনবল সৃষ্টিতে আরও কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে। যোগাযোগ বাড়াতে হবে শিক্ষা এবং শিল্পের মধ্যে।

গতকাল রোববার আমেরিকান চেম্বার অব কমার্স ইন বাংলাদেশের (অ্যামচেম) মাসিক মধ্যাহ্নভোজ সভায় এলডিসি থেকে উত্তরণ-পরবর্তী সম্ভাবনা ও চ্যালেঞ্জ এবং শ্রম খাতের পরিস্থিতিবিষয়ক আলোচনায় এসব কথা বলেন বক্তারা। হোটেল শেরাটন ঢাকায় আয়োজিত সভায় দুটি গবেষণা প্রবন্ধ উপস্থাপন করা হয়। অ্যামচেম সভাপতি সৈয়দ এরশাদ আহমেদ অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. আতিউর রহমান। এলডিসি থেকে উত্তরণ-পরবর্তী সম্ভাবনা ও চ্যালেঞ্জ এবং আগামীর করণীয় বিষয়ে তিনি একটি প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন। এতে তিনি বলেন, বাংলাদেশ তার নিজস্ব উন্নয়ন অগ্রযাত্রায় বিভিন্ন ক্ষেত্রে লক্ষণীয় উন্নতি করেছে। পোশাক রপ্তানিতে দ্বিতীয় প্রধান রপ্তানিকারক দেশের মর্যাদা অর্জন তারই প্রমাণ। তবে এলডিসি থেকে উত্তরণের পর বিভিন্ন ক্ষেত্রে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হবে। কারণ রপ্তানি বাণিজ্যে শুল্কমুক্ত সুবিধা থাকবে না। এ চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় রপ্তানি খাতের ভিত্তি আরও মজবুত করতে হবে।
তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক মহল যে যাই বলুক না কেন, বিদ্যমান প্রণোদনা আরও কয়েক বছর চালিয়ে যেতে হবে। যাতে বাংলাদেশের এলডিসি থেকে উত্তরণ মসৃণ ও টেকসই হয়। এর বাইরে ইউরোপসহ বিভিন্ন বাজারে বর্ধিত মেয়াদে শুল্কমুক্ত সুবিধা পাওয়া এবং বিভিন্ন দেশের সঙ্গে মুক্তবাণিজ্য চুক্তি-এফটিএ করতে হবে। এ জন্য অর্থনৈতিক কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার করা দরকার। এ ছাড়া সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগ-এফডিআই বাড়াতে শুল্ক এবং অবকাঠামো সম্পর্কিত বাধা দূর করতে হবে।

সভায় টেকসই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির জন্য শ্রম পরিস্থিতির উন্নয়ন বিষয়ে প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ইনডিপেনডেন্ট  ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশের অধ্যাপক মামুন হাবীব। এতে মজুরি ও মূল্যস্ফীতি বৃদ্ধির মধ্যে ব্যবধান, শ্রম আইনের বিভিন্ন দুর্বলতা ও রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল-ইপিজেডে ট্রেড ইউনিয়ন চর্চার বিষয়ে নীতিনির্ধারকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন তিনি।

প্যানেল আলোচনায় বাংলাদেশে যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসের কমার্শিয়াল কাউন্সেলর জন ফে বলেন, বাংলাদেশে ন্যূনতম শ্রমমান নিশ্চিত করতে চায় তাঁর দেশ। এ জন্য শ্রম পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলেন তারা। রপ্তানি পণ্যের দর কিংবা সরবরাহ চেইনের বিষয়ে সাধারণত তারা কথা বলেন না। তবে কমার্শিয়াল কাউন্সেলর হিসেবে এসব বিষয়েও কাজ করা যেতে পারে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশের জিএসপি সুবিধা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, মাস দু-এক আগে ঢাকায় অনুষ্ঠিত টিকফা বৈঠকে এ নিয়ে আলোচনা হয়েছে। আসলে যুক্তরাষ্ট্র শুধু বাংলাদেশের নয়, সারাবিশ্বের শ্রমমান নিয়েই সরব আছে।
জিএসপি বিষয়ে মার্কিন দূতাবাসের লেবার অ্যাটাশে লিনা খান বলেন, ২০৩০ সালে যুক্তরাষ্ট্র আবার জিএসপি স্কিমে ফিরবে। এ সুবিধা পেতে বাংলাদেশকে তখন আবারও আবেদন করতে হবে। তবে তার আগে এ দেশের শ্রমমান আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা–আইএলওর মানের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হতে হবে।
এ বিষয়ে আইএলওর প্রোগ্রাম ম্যানেজার নিরান রামযুথান বলেন, বাংলাদেশের শ্রমমান উন্নয়নে ৮০০ পোশাক কারখানার সঙ্গে কাজ করছেন তারা। সব কারখানার সঙ্গে কাজ করার বিষয়টা বেশ ব্যয়সাপেক্ষ।

সর্বশেষ
জনপ্রিয়