ঢাকা, ২০২৬-০৭-২৬ | ১১ শ্রাবণ,  ১৪৩৩

পোশাক রফতানিতে ভিয়েতনামের কাছে হেরে যাচ্ছে বাংলাদেশ!

প্রবাস নিউজ ডেস্কঃ

প্রকাশিত: ০৪:৫৫, ১৩ মে ২০২৪  

যুক্তরাষ্ট্রে চীন ও বাংলাদেশের তৈরি পোশাকের রফতানি কমলেও আধিপত্য বাড়ছে ভিয়েতনামের। দ্রুত পরিবর্তনশীল অর্থাৎ ফাস্ট ফ্যাশন আর ম্যানমেইড ফাইবারের পোশাক তৈরির সক্ষমতা বাড়াতে না পারলে অন্য দেশেও কমতে পারে আমাদের বাজার হিস্যা। এমন আশঙ্কা খাত বিশেষজ্ঞদের। এ থেকে বাংলাদেশকে দূরে রাখতে নতুন নতুন প্রযুক্তির সন্নিবেশ আর কারখানাগুলোকে যুগোপযোগী করতে স্বল্পসুদে ঋণ সহায়তা নিয়ে সরকারকে এগিয়ে আসা দরকার বলে মনে করেন শিল্প মালিকরা

তৈরি পোশাক রফতানিতে ব্র্যান্ডিং-মার্কেটিং দুর্বলতা কাটানোর পরামর্শ বিশেষজ্ঞদের। 

 

একক দেশ হিসেবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশি তৈরি পোশাকের দ্বিতীয় বৃহত্তম বাজার। তবে সেই বাজারে ক্রমেই কমছে মেইড ইন বাংলাদেশের হিস্যা; বিপরীতে প্রভাব বাড়ছে ভিয়েতনামী পোশাকের।

ইউএস ডিপার্টমেন্ট অব কমার্সের আওতাধীন অফিস অব টেক্সটাইল অ্যান্ড অ্যাপারেলের (অটেক্সা) হালনাগাদ পরিসংখ্যান বলছে, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত এক হাজার ৮০৭ কোটি ডলার মূল্যের পোশাক আমদানি করেছেন মার্কিন ব্যবসায়ীরা। এটি ২০২৩ সালের একই সময়ের তুলনায় ৭.১৪ শতাংশ কম।

 

 

গ্রাফিক্স চিত্রে যুক্তরাষ্ট্রে তৈরি পোশাক রফতানিতে শীর্ষ ৫ দেশ

 

দেশটির এ সংকোচনমুখী আমদানি নীতির সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশে। এক বছর আগের তুলনায় চলতি বছরের প্রথম তিন মাসে মার্কিন বাজারে তৈরি পোশাক রফতানিকারকদের শীর্ষ পাঁচ দেশের মধ্যে কেবল রফতানি বেড়েছে ভিয়েতনামের। যেখানে সবচে বেশি সাড়ে ১৭ শতাংশের বেশি কমেছে বাংলাদেশের।

 

এ অবস্থায় খাত বিশ্লেষকরা বলছেন, ফাস্ট ফ্যাশনকে গুরুত্ব দিয়ে ঢেলে সাজাতে হবে উৎপাদন ব্যবস্থাকে। তৈরি পোশাক শিল্প বিশ্লেষক অমিত কুমার বিশ্বাস বলেন, ‘এক্ষেত্রে আমাদের ব্র্যান্ডিং-মার্কেটিং দুর্বলতা কাটাতে হবে। ফাস্ট ফ্যাশনসহ যেসব জায়গায় দুর্বলতা আছে, সেগুলোর সক্ষমতা বাড়াতে হবে। প্রয়োজনে উৎপাদন ব্যবস্থাকে ঢেলে সাজাতে হবে।’

 

গতানুগতিক ধারায় থেকে বৈচিত্র্যময় পোশাক তৈরিতে মনোযোগ বাড়িয়েছেন শিল্প মালিকরাও। তবে তারা বলছেন, উদ্যোক্তাদের কাটাতে হবে শক্তিশালী ব্র্যান্ডিং-মার্কেটিং দুর্বলতা; সেই সঙ্গে কারখানার আধুনিকায়নে স্বল্পসুদে বড় অঙ্কের ব্যাংক ঋণ নিয়ে এগিয়ে আসতে হবে সরকারকে।

 

বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুত ও রফতানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) সাবেক সভাপতি  সিদ্দিকুর রহমান বলেন, ম্যান মেইড ফাইবারে বাংলাদেশ অনেক পিছিয়ে আছে। এ খাতের বাজার ধরতে ও সমৃদ্ধিতে সরকারকে এগিয়ে আসতে হবে; স্বল্পসুদে বড় অঙ্কের ব্যাংক ঋণ সুবিধা দিতে হবে।

 

২০২৪ সালের জানুয়ারি থেকে মার্চ সময়ে দেশটিতে ১৭৫ কোটি ডলারের তৈরি পোশাক রফতানি করেছে বাংলাদেশ। এ সময়ে চীন রফতানি করেছে ৩৪৪ কোটি ডলার মূল্যের তৈরি পোশাক, আর ভিয়েতনাম থেকে যুক্তরাষ্ট্রে গেছে ৩৩৯ কোটি ডলার মূল্যের তৈরি পোশাক।

 

সর্বশেষ
জনপ্রিয়