দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে কর-জিডিপির অনুপাত সবচেয়ে কম বাংলাদেশে : পিআরআ
প্রবাস নিউজ ডেস্কঃ
দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে কর-জিডিপির অনুপাত সবচেয়ে কম বাংলাদেশে। বর্তমানে এই হার ৭ দশমিক ৬ শতাংশ। আমাদের কর জিডিপির হার সোমালিয়া বা ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গোর কাছাকাছি। সংস্কার না করা হলে আগামী বছরে এই হার আরও কমবে। আর ১০ শতাংশের কম কর-জিডিপির অনুপাত নিয়ে উচ্চ আয়ের দেশে উত্তরণ সম্ভব নয় বলে জানিয়েছে বেসরকারি গবেষণা সংস্থা পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউট (পিআরআই)।
মঙ্গলবার (৩০ এপ্রিল) রাজধানীর একটি হোটেলে অভ্যন্তরীণ রাজস্ব আদায়ে করণীয় নিয়ে আয়োজিত এক সেমিনারে এসব কথা বলেন পিআরআইয়ের নির্বাহী পরিচালক ড. আহসান এইচ মনসুর।
প্রধানমন্ত্রীর অর্থনৈতিক বিষয়ক উপদেষ্টা মসিউর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন অর্থ প্রতিমন্ত্রী ওয়াসিকা আয়শা খান। এ ছাড়া বিশেষ অতিথি ছিলেন জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান আবু হেনা মো. রহমাতুল মুনিম ও ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (এফবিসিসিআই) সভাপতি মাহবুবুল আলম। প্যানেল আলোচনায় কথা বলেন মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (মেট্রো চেম্বারের/এমসিসিআই) সভাপতি কামরান টি রহমান, চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের চেয়ারম্যান আসিফ ইব্রাহীম, ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (ডিসিসিআই) আশরাফ আহমেদ, এনবিআরের সাবেক চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আবদুল মজিদ।
পিআরআইয়ের নির্বাহী পরিচালক আহসান এইচ মনসুর বলেন, নির্দিষ্ট কিছু ক্ষেত্রে পর্যায়ক্রমে করছাড় বাদ দিলে আগামী ৪ বছরে ৬০০ বিলিয়ন বা ৬০ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব আয় বাড়ানো সম্ভব হবে। সেইসঙ্গে আর্থিক খাতে মধ্যমেয়াদি কিছু সংস্কার বাস্তবায়ন করা গেলে আগামী ২০৪১ সালের মধ্যে ৪৯ ট্রিলিয়ন বা ৪৯ লাখ কোটি টাকা রাজস্ব আদায় বাড়ানো সম্ভব হবে।
আর এ সময়ে ব্যাপক সংস্কার বাস্তবায়ন না করলে সরকার ৫০ লাখ কোটি টাকার রাজস্ব ক্ষতিতে পড়বে বলেও মন্তব্য করে তিনি বলেন, আর্থিক খাত টেকসই করতে করছাড়ের সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসার বিকল্প নেই। অভ্যন্তরীণ আয় বাড়াতে প্রতিবছর ২০ থেকে ২৫ হাজার কোটি টাকা করে করছাড় বাদ দিতে হবে। এতে ৪ বছরে ৬০ হাজার কোটি টাকা সংগ্রহ করা যাবে।
বেসরকারি খাতে ঋণের যোগান প্রসঙ্গে তিনি বলেন, চলতি অর্থবছরের বাজেটে অভ্যন্তরীণ খাত থেকে ১ লাখ ৫৬ হাজার কোটি টাকা ঋণ নেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা আছে। বাংলাদেশ ব্যাংক বলছে, মূল্যস্ফীতি মোকাবিলায় তারা নতুন করে টাকা ছাপাবে না। দেশের ব্যাংক খাতে এ বছর সব মিলিয়ে দেড় লাখ কোটি টাকার মতো আমানতের প্রবৃদ্ধি হতে পারে। ফলে ব্যাংক খাতের পুরো অর্থ সরকারের বাজেট বাস্তবায়নে প্রয়োজন হলে ব্যক্তি উদ্যোগের কী হবে, এই প্রশ্ন তোলেন তিনি।
আহসান এইচ মনসুরের এই বক্তব্যের সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করে এনবিআর চেয়ারম্যান আবু হেনা মো. রহমাতুল মুনিম বলেন, সবাই উৎসাহের সঙ্গে বলেন, দেশে কর-জিডিপির অনুপাত হতাশাজনক; কিন্তু তিনি বিষয়টি সেভাবে দেখেন না। কর জিডিপি নিয়ে সোমালিয়া কঙ্গোর সঙ্গে তুলনা করা ঠিক নয়। সে সব দেশের সঙ্গে তুলনা করলে সব কটি মানদণ্ড নিয়ে তুলনা করতে হবে। গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে, যাদের কর জিডিপি হার বেশি, তাদের রাজস্ব আয়ের উৎস দেখতে হবে। যেমন মালদ্বীপের কর-জিডিপির হার বেশি। সেখানে রাজস্ব আদায়ের মূল উৎস পর্যটন খাত। আমাদের কিন্তু এমন উৎস নেই।
এনবিআর চেয়ারম্যান আরও বলেন, আমি মনে করি, বেশি ঋণ নেওয়া ভালো। যত বেশি ঋণ নেওয়া হবে, অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড তত বাড়বে।
- `রক্তদানে বিত্ত বৈভব নয় প্রয়োজন সেবার মানসিকতা`
- ১২ পয়েন্ট কাটা পড়লেই বাতিল ড্রাইভিং লাইসেন্স
- প্রথমবারের মতো পালিত হচ্ছে টোটাল ফিটনেস ডে
- তুরস্কের ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় শ্রমিক পাঠাতে চায় বাংলাদেশ
- ভারতে যাওয়া কমেছে বাংলাদেশিদের
- নব্বইয়ের দশকে গ্রামে আমাদের শৈশব কৈশোরের ঈদ
- বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র বাণিজ্য যে অবস্থানে
- মালয়েশিয়ার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে সমঝোতা নিয়ে দীর্ঘ বৈঠক
- চীনা বিনিয়োগকারীদের দেশে কারখানা স্থানান্তরের আহ্বান ড. ইউনূসের
- সফলতার গল্প পড়ে পাঠকেরা অনুপ্রাণিত হন








