ঢাকা, ২০২৬-০৮-০৩ | ১৮ শ্রাবণ,  ১৪৩৩

সাংবাদিক শামসুজ্জামানকে গ্রেপ্তারের প্রতিবাদে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্বব

প্রবাস নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৯:৫৯, ২৯ মার্চ ২০২৩   আপডেট: ২২:৫৮, ২৯ মার্চ ২০২৩

সাভারে কর্মরত প্রথম আলোর নিজস্ব প্রতিবেদক শামসুজ্জামানকে গ্রেপ্তারের ঘটনায় প্রতিবাদ জানিয়েছে ছাত্র ইউনিয়নের জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় সংসদ ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতি (জাবিসাস)। এ ছাড়া একই ঘটনার প্রতিবাদে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে মানববন্ধন, বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করা হয়েছে।

আজ বুধবার বিকেল সাড়ে চারটার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন চত্বর থেকে মিছিল বের করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীরা। মিছিলটি বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের পাদদেশে গিয়ে শেষ হয়। পরে সেখানে বিক্ষোভ সমাবেশ করেন তাঁরা।

এ সময় শিক্ষার্থীরা শামসুজ্জামানের মুক্তির দাবি জানিয়ে ‘অ্যাকশন অ্যাকশন, ডিএসএর বিরুদ্ধে ডাইরেক্ট অ্যাকশন’, ‘মুক্তি মুক্তি চাই, শামস (শামসুজ্জামান) ভাইয়ের মুক্তি চাই’, ‘হামলা করে আন্দোলন বন্ধ করা যাবে না’ ইত্যাদি স্লোগান দিতে থাকেন।

বিক্ষোভ সমাবেশে অর্থনীতি বিভাগের ৪৭তম ব্যাচের শিক্ষার্থী তাপসী দে প্রাপ্তি বলেন, ‘সাদাপোশাকে গুম করার যে সংস্কৃতি, সেটা দীর্ঘদিন ধরে চলে আসছে। আমরা সবাই ভয়ের মধ্যে বসবাস করছি। দেশের সবার নিদারুণ অবস্থা যখন প্রথম আলো তুলে ধরছে, তখন রাষ্ট্র মনে করছে তার বিরুদ্ধে কথা বলছে। আমরা সবাই যদি চুপ থাকি, তাহলে একদিন আমাদের গিলে ফেলা হবে। যে মামলায় শামসুজ্জামানকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, আমরা সেটা  বাতিল চাই। শামসুজ্জামানের নিঃশর্ত মুক্তি চাই।’

বিকেল সাড়ে চারটার দিকে মিছিল বের করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীরা

বিকেল সাড়ে চারটার দিকে মিছিল বের করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীরা

বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রগতিশীল ছাত্রসংগঠনের নেতা-কর্মীরাও অংশ নেন। সমাবেশে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র ইউনিয়নের সহসাধারণ সম্পাদক ঋদ্ধ অনিন্দ্য গাঙ্গুলী বলেন, ‘ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন বাতিল করতে হবে। সরকার তার প্রয়োজনের সময় অসৎ উদ্দেশ্যে এই আইন ব্যবহার করছে।’

এর আগে আজ দুপুরে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র ইউনিয়ন ও জাবিসাসের পক্ষ থেকে পৃথক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে শামসুজ্জামানকে গ্রেপ্তারের বিষয়ে প্রতিবাদ জানানো হয়।

জাহাঙ্গীরনগর ছাত্র ইউনিয়নের সভাপতি ইমতিয়াজ অর্ণব ও সাধারণ সম্পাদক অমর্ত্যা রায় এক যৌথ বিবৃতিতে বলেন, ‘এই ঘটনার মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় দমন-নিপীড়নের চূড়ান্ত রূপ উঠে এসেছে আমাদের সামনে। মানুষকে বাক্‌রুদ্ধকরণের পাঁয়তারা এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে, যেখানে সমাজের তৃতীয় শ্রেণির খেটে খাওয়া মানুষও তার ভাত, মাছ, মাংসের দাবি তুলে ধরতে পারে না। দেশব্যাপী চলমান নীরব এই দুর্ভিক্ষের বার্তা দেশের মানুষের কাছে পৌঁছানোর অর্পিত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে সাংবাদিক শামসুজ্জামান এমন হেনস্তা ও অপহরণের শিকার হয়েছেন।’

এদিকে শামসুজ্জামানের অবিলম্বে মুক্তির দাবি জানিয়ে জাবিসাসের সভাপতি বেলাল হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক আলকামা আজাদ এক যৌথ বিবৃতিতে বলেন, দায়িত্বশীল ব্যক্তিরা সরকার ও রাষ্ট্রকে গুলিয়ে ফেলেছেন। সরকার যেখানে কতিপয় ব্যক্তি এবং রাষ্ট্র কতগুলো সুসংহত প্রতিষ্ঠানের সমষ্টি, সেখানে কতিপয় ব্যক্তি রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানকে ব্যবহার করে নিজেদের খায়েশ মেটানোর চেষ্টা করছেন। এই অপচেষ্টা রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠানগুলোকে ধ্বংসের কিনারে নিয়ে গিয়েছে। সেই সঙ্গে রাষ্ট্রযন্ত্রকে ক্রমান্বয়ে কর্তৃত্ববাদী চরিত্রে রূপান্তর করেছে। এতে জনগণের ব্যক্তি ও বাক্‌স্বাধীনতার মতো সাংবিধানিক অধিকারকে খর্ব করছে। ফলে সাংবাদিকতার মতো পেশাও আজ হুমকির মুখে

জাবিসাসের বিবৃতিতে সংবিধানের দুটি অনুচ্ছেদের উদ্ধৃতি দিয়ে দ্রুত শামসুজ্জামানকে নিরাপদে ও অক্ষত অবস্থায় নিঃশর্ত মুক্তি প্রদানের দাবি জানান। জাবিসাসের সাবেক সদস্য শামসুজ্জামানকে মুক্তি না দেওয়া হলে কঠোর আন্দোলনেরও হুঁশিয়ারি দেন তাঁরা।

প্রসঙ্গত, আজ বুধবার ভোর চারটার দিকে প্রথম আলোর নিজস্ব প্রতিবেদক শামসুজ্জামানকে তাঁর বাসা থেকে সিআইডির পরিচয়ে তুলে নেওয়া হয়েছে। সিআইডির পরিচয় দেওয়া ব্যক্তিরা সাধারণ পোশাকে ছিলেন। সাংবাদিক শামসুজ্জামানের বাসা সাভারে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশে আমবাগান এলাকায়। এদিকে গত ২৬ মার্চ প্রথম আলোতে প্রকাশিত এক সংবাদের জেরে শামসুজ্জামানের বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা করা হয়েছে। রাজধানীর তেজগাঁও থানায় হওয়া মামলাটির বাদী সৈয়দ মো. গোলাম কিবরিয়া (৩৬) নামের এক ব্যক্তি। থানায় তালিকাভুক্ত হওয়া এজাহার অনুযায়ী, গত মঙ্গলবার দিবাগত রাত ২টা ১৫ মিনিটে মামলাটি হয়েছে।

সর্বশেষ
জনপ্রিয়