বিশ্ববাজারে বাড়ছে স্বর্ণের দাম, কতটা প্রভাব পড়বে দেশে?
প্রবাস নিউজ ডেস্কঃ
বিশ্ববাজারে লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে স্বর্ণের দাম। সেই সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে দেশের বাজারেও। এতে অতীতের সব রেকর্ড ভেঙ্গে সর্বোচ্চ দামে বিক্রি হচ্ছে স্বর্ণ। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বাড়ায় শিগগিরই আবারও দেশের বাজারে সমন্বয় হতে পারে স্বর্ণের দাম।
বিশ্ববাজারে চলতি বছর ২ হাজার ৩০০ ডলার ছাড়িয়ে যেতে পারে প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম। ছবি: সংগৃহীত
বিশ্বজিৎ দাস বিজয়
আন্তর্জাতিক বাজার বিশ্লেষণ করে জানা যায়, শুক্রবার স্পট মার্কেটে বৈশ্বিক বেঞ্চমার্ক স্বর্ণের দাম শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ বেড়ে রেকর্ড উচ্চতায় গিয়ে ঠেকেছে। প্রতি আউন্সের দাম স্থির হয়েছে ২ হাজার ১৭০ ডলার ৫৫ সেন্টে।
একই দিনে ফিউচার মার্কেটে ইউএস বেঞ্চমার্ক স্বর্ণের দাম বেড়েছে শূন্য দশমিক ৯ শতাংশ। আউন্সপ্রতি দাম স্থির হয়েছে ২ হাজার ১৮৫ ডলার ৫০ সেন্টে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভের চেয়ারম্যান জেরোম পাওয়েল সুদের হার কমানোর ইঙ্গিত দেয়ায় বাড়ছে সোনার দাম। পাশাপাশি ভূরাজনৈতিক কারণেও নিরাপদ বিনিয়োগের মাধ্যম হিসেবে মানুষ ঝুঁকছেন স্বর্ণের দিকে।
এদিকে, চলতি বছর প্রতি আউন্স সোনার দাম ২ হাজার ৩০০ ডলার ছাড়িয়ে যেতে পারে বলেও ধারণা করছেন বিশ্লেষকরা।
বিশ্ববাজারে স্বর্ণের এ উর্ধ্বমুখী দামের প্রভাবে দেশের বাজারেও দাম বাড়তে পারে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বাজুস) স্ট্যান্ডিং কমিটি অন প্রাইসিং অ্যান্ড প্রাইস মনিটরিংয়ের চেয়ারম্যান ও বাজুস সহসভাপতি মাসুদুর রহমান সময় সংবাদকে বলেন, বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম বৃদ্ধির প্রভাব দেশের বাজারে পড়বে। কারণ বিশ্ববাজারে দাম বাড়লে-কমলে দেশের বাজারেও দাম সমন্বয় করা হয় নিয়মিত।
বিশ্ববাজারের সঙ্গে সমন্বয় না করলে প্রতিবেশী দেশগুলোতে স্বর্ণ পাচার হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে জানিয়ে তিনি বলেন, এখনই স্বর্ণের দাম বাড়ানোর কথা ভাবা হচ্ছে না। যেহেতু তিনদিন আগেই সমন্বয় করা হয়েছে। তবে বিশ্ববাজারে দাম আরও বাড়লে, দেশের বাজারেও বাড়ানো হবে।
তিনি বলেন, বর্তমানে বিশ্বব্যাপী মূল্যস্ফীতির সমস্যা চলছে। যা স্বর্ণের দাম বাড়ার পেছনে একটি অন্যতম কারণ হতে পারে। মূলত মূল্যস্ফীতি বাড়লে অর্থের মান কমে যায়। তখন স্বর্ণে বিনিয়োগ বাড়ে।
বিশ্ববাজারে দাম বৃদ্ধির প্রসঙ্গে মাসুদুর রহমান আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভ যখন সুদের হার বাড়ায় তখন স্বর্ণের দাম কমে যায়। কারণ ডলারের প্রতি মানুষ তখন ঝুঁকে যায়। ফেডারেল রিজার্ভ সুদের হার কমানোর ইঙ্গিত দিয়েছে। সুদহার কমলে বিশ্ববাজারে আরও বেড়ে যাবে স্বর্ণের দাম।
এছাড়া ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার কারণে বিনিয়োগকারীরা এখন স্বর্ণের দিকে ঝুঁকছেন জানিয়ে মাসুদুর রহমান বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো এখন ডলারের বদলে স্বর্ণ মজুতকে প্রাধান্য দিচ্ছে। এতে বাড়ছে স্বর্ণের চাহিদা। আর চাহিদা বাড়ায় প্রভাব পড়ছে দামেও।
তিনি বলেন, ওয়ার্ল্ড গোল্ড কাউন্সিলের হিসাবে চলতি বছর প্রতি আউন্স সোনার দাম ২ হাজার ৩০০ ডলার ছাড়িয়ে যেতে পারে। সেটা রাতারাতি হবে না। তবে এটি প্রায় ২ হাজার ২০০ ডলারের কাছাকাছি চলে গেছে। ধীরে ধীরে স্বর্ণের দাম ওয়ার্ল্ড গোল্ড কাউন্সিলের পূর্বাভাসের দিকেই ধাবিত হচ্ছে।
উল্লেখ্য, আন্তর্জাতিক ও স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণের (পিওর গোল্ড) দাম বাড়ায় গত ৬ মার্চ সবশেষ দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম বাড়ানোর ঘোষণা দেয় বাজুস। যা কার্যকর হয়েছে গত ৭ মার্চ থেকে।
সমন্বয় করা মূল্য অনুযায়ী, সবচেয়ে ভালো মানের ২২ ক্যারেটের স্বর্ণ ২ হাজার ২১৭ টাকা বাড়িয়ে ভরি ১ লাখ ১২ হাজার ৯০৮ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এছাড়া ২১ ক্যারেটের এক ভরি সোনার দাম ১ লাখ ৭ হাজার ৭৭৫ টাকা, ১৮ ক্যারেটের দাম হয়েছে ৯২ হাজার ৩৭৯ টাকা ও সনাতন পদ্ধতির এক ভরি সোনার দাম ৭৬ হাজার ৯৮২ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
- `রক্তদানে বিত্ত বৈভব নয় প্রয়োজন সেবার মানসিকতা`
- ১২ পয়েন্ট কাটা পড়লেই বাতিল ড্রাইভিং লাইসেন্স
- প্রথমবারের মতো পালিত হচ্ছে টোটাল ফিটনেস ডে
- তুরস্কের ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় শ্রমিক পাঠাতে চায় বাংলাদেশ
- ভারতে যাওয়া কমেছে বাংলাদেশিদের
- নব্বইয়ের দশকে গ্রামে আমাদের শৈশব কৈশোরের ঈদ
- বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র বাণিজ্য যে অবস্থানে
- মালয়েশিয়ার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে সমঝোতা নিয়ে দীর্ঘ বৈঠক
- চীনা বিনিয়োগকারীদের দেশে কারখানা স্থানান্তরের আহ্বান ড. ইউনূসের
- সফলতার গল্প পড়ে পাঠকেরা অনুপ্রাণিত হন








