পোশাকখাতে একচ্ছত্র আধিপত্যের সম্ভাবনা বাংলাদেশের
প্রবাস নিউজ ডেস্কঃ
বাংলাদেশের পোশাকখাতের সবচেয়ে বড় বাজার যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের দেশগুলো। তবে পশ্চিমে মন্দাভাব ও কূটনৈতিক নানা কারণে দেশের পোশাকখাতের ভবিষ্যৎ নিয়ে ক'দিন আগেও দেখা দিয়েছিল বড় রকমের শঙ্কা। তবে এবার শঙ্কা কাটিয়ে সম্ভাবনার আলো দেখা যাচ্ছে।
সম্প্রতি সংবাদমাধ্যম বিবিসির এক প্রতিবেদনে বলা হয়, গত বছর পোশাকখাতে রফতানি বাড়লেও আমেরিকার বাজারে মূলত রফতানি কমেছে। যেখানে পোশাক খাতের রফতানি বাজার মানেই ছিল পশ্চিমা দেশ, সেখানে এসব দেশের বাজারে কম রফতানি করেও ভালো রফতানির মুখ দেখার প্রধান কারণ হচ্ছে বাজার সম্প্রসারণ।
এশিয়ায় হচ্ছে নতুন বাজার
একসময়ের এশিয়া যেখানে ছিল প্রতিযোগী বাজার; ভারত-চীন যেখানে বাংলাদেশের সঙ্গে টেক্কা দিয়ে পশ্চিমে পোশাক রফতানি করতো, সেখানে এসব দেশেই পোশাক রফতানির কথা ভাবছে বাংলাদেশ।
তবে কীভাবে এমন সম্ভাবনার দুয়ারের সন্ধান পেল বাংলাদেশের পোশাকখাত এমন প্রশ্নের জবাবে বিকেএমই'র নির্বাহী সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম বলেন, ভারত-চীনের মতো দেশগুলো পোশাকখাত থেকে তাদের শিল্পখাতের মোড় ঘুরিয়ে প্রযুক্তিখাতের দিকে ঝুঁকছে। এসব দেশে পোশাকখাতে কর্মীদের যে পরিমাণ বেতন-ভাতা দেয়া হয়, অন্যান্য খাতে এর থেকে সু্যোগ সুবিধা বেশি। এতে করে বিনিয়োগকারী ও কর্মীরা হাইটেক খাতের দিকে মনোযোগ দিচ্ছে।
চীন-ভারত হাইটেকের দিকে গেলেও বিশ্বে পোশাকের চাহিদা কমছে না বা অদূর ভবিষ্যতেও কমার কোনো সম্ভাবনা নেই। এ অবস্থায় বাংলাদেশের জন্য ইউরোপের বাজারের পাশাপাশি বড় বাজার হবে এশিয়া। হাতেম বলেন, ‘আমাদের লক্ষ্য ভারত, চীন, জাপান ও অস্ট্রেলিয়ার মতো দেশগুলোতে পোশাক রফতানি শুরু করা। এসব দেশে পোশাক রফতানি শুরু করলে বাংলাদেশ একদিকে যেমন বিকল্প বাজার পাবে, অন্যদিকে শুধু পশ্চিমা নির্ভর বাজার থেকেও বের হয়ে আসা যাবে।’
হাইটেকের এই ঢেউয়ে পোশাকখাতের বাজারে বাংলাদেশের একচ্ছত্র আধিপত্য দেখানোর প্রসঙ্গে হাতেম বলেন, ‘পোশাকখাতে বাংলাদেশের শীর্ষ অবস্থানে যাওয়া এখন সময়ের ব্যাপার। অন্তবর্তী কয়েকটি পদক্ষেপ নিলেই বাংলাদেশ এই খাতে ভালো করতে পারবে।’
বাড়াতে হবে উৎপাদন সক্ষমতা
তবে সম্ভাবনার মধ্যেও শঙ্কা আছে। দেশের পোশাকের বিশ্বব্যাপী চাহিদা থাকলেও, সরবরাহ সক্ষমতা বাড়ানো এখন সময়ের দাবি। বিশেষ করে শিল্প কারখানাগুলোতে গ্যাস সংকট নিরসণ না করলে ধুকতে থাকা এ খাত নিয়ে বেশি দূর যাওয়া যাবে না। এছাড়া বিভিন্ন পণ্য রফতানিতে শুল্ক সুবিধা ও এনবিআরের সহনশীলতা সৃষ্টির মাধ্যমে পোশাকখাতকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যাওয়া সম্ভব বলে মনে করেন বিকেএমইএ সভাপতি।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অফিস অব টেক্সটাইলস অ্যান্ড অ্যাপারেলসের (অটেক্সা) পরিসংখ্যান থেকে দেখা যায়, বাংলাদেশ থেকে ২০২১ সালের তুলনায় ২০২২ সালে পোশাক রফতানি ৫০ শতাংশ বেশি হয়েছে। তবে ২০২৩ সালে এ রফতানি আগের বছরের তুলনায় ২৫ শতাংশ কমে এসেছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রে পোশাক রফতানি কমলেও ২০২৩ সালে দেশের তৈরি পোশাক রফতানি হয়েছে ৪৭ দশমিক ৩৯ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। যা গত বছরের তুলনায় বেড়েছে ৩ দশমিক ৬৭ শতাংশ।
রফতানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) পরিসংখ্যানের বরাত দিয়ে বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রফতানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) দেয়া তথ্যানুসারে, ২০২৩ সালে দেশের তৈরি পোশাক রফতানি হয়েছে ৪৭ দশমিক ৩৯ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। যা ২০২২ সালের থেকে ১ দশমিক ৬৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বেশি। আর বছরভিত্তিক প্রবৃদ্ধির পরিমাণ ৩ দশমিক ৬৭ শতাংশ।
দক্ষিণ আমেরিকায় সম্ভাবনা
দেশের পোশাকখাতে বাজার সম্প্রসারণের বড় একটি মাধ্যম হতে পারে দক্ষিণ আমেরিকার দেশগুলো। বিশেষ করে আর্জেন্টিনা, উরুগুয়ে ও ব্রাজিলের মতো দেশে বাংলাদেশের পোশাকের চাহিদা তৈরি করা সম্ভব। তবে এখানে বাধ সাধছে উচ্চ শুল্ক হার। এটি কমিয়ে আনতে পারলে বাজার সম্প্রসারণ বাংলাদেশের জন্য আরও সহজ হবে বেলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।
এ বিষয়ে বিকেএমইএর সভাপতি বলেন, ‘আমরা এসব দেশের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক চুক্তির জন্য বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে দফায় দফায় বৈঠক করেছি। চুক্তি বাস্তবায়ন হলে এসব দেশে বাংলাদেশ সহজেই পোশাক রফতানি করতে পারবে। এতে করে একদিকে যেমন বাড়বে রফতানি আয়, অন্যদিকে বাজার সম্প্রসারণের মাধ্যমে বাংলাদেশের এ খাত আরও বিস্তৃত হবে।’
বিজিএমইর দেয়া তথ্যমতে, চ্যালেঞ্জিং সময় পার করা সত্ত্বেও বর্তমানে বিশ্বের ১৬৭টি দেশে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রফতানি করা হচ্ছে। এভাবে রফতানির ধারা বজায় রাখতে পারলে ২০৩০ সালের মধ্যে পোশাকখাত থেকে ১০০ বিলিয়ন ডলার রফতানি আয় আসবে বলে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে সংস্থাটি।
বাংলাদেশের পোশাক রফতানির ভবিষ্যৎ বিষয়ে বিজিএমইএ সভাপতি ফারুক হাসান সময় সংবাদকে বলেন, ২০২৩ সাল ছিল বাংলাদেশের পোশাকখাতের জন্য চ্যালেঞ্জিং সময়। ২০২৪ সাল দেশের এ খাতের জন্য অত্যন্ত সম্ভাবনাময়। অভ্যন্তরীণ সমস্যা সমাধান করা গেলে, বিশ্বে পোশাক রফতানির শীর্ষে পৌঁছাতে বাংলাদেশের খুব বেশিদিন অপেক্ষা করতে হবে না বলে জানান তিনি।
শুধু বিজিএমইএ বা বিকেএমইএ না দেশের পোশাকখাত নিয়ে বড় রকমের সম্ভাবনা দেখছে সরকারও। সম্প্রতি বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী বিজিএমইএ’র পরিচালনা পর্ষদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় খাত সম্প্রসারণ প্রসঙ্গে বলেন, বাংলাদেশের বস্ত্রখাত এখন আর একজন মোড়লের ওপর নির্ভরশীল নেই। বিশ্ববাজারে দাপটের সঙ্গে নিজেদের পণ্য রফতানি করছে বাংলাদেশ। খাত সংশ্লিষ্টদের নানা রিপোর্টের ওপর ভিত্তি করে সরকার পদক্ষেপ নেবে বলেও ব্যবসায়ীদের আশ্বস্ত করেন তিনি।
- `রক্তদানে বিত্ত বৈভব নয় প্রয়োজন সেবার মানসিকতা`
- ১২ পয়েন্ট কাটা পড়লেই বাতিল ড্রাইভিং লাইসেন্স
- প্রথমবারের মতো পালিত হচ্ছে টোটাল ফিটনেস ডে
- তুরস্কের ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় শ্রমিক পাঠাতে চায় বাংলাদেশ
- ভারতে যাওয়া কমেছে বাংলাদেশিদের
- নব্বইয়ের দশকে গ্রামে আমাদের শৈশব কৈশোরের ঈদ
- বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র বাণিজ্য যে অবস্থানে
- মালয়েশিয়ার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে সমঝোতা নিয়ে দীর্ঘ বৈঠক
- চীনা বিনিয়োগকারীদের দেশে কারখানা স্থানান্তরের আহ্বান ড. ইউনূসের
- সফলতার গল্প পড়ে পাঠকেরা অনুপ্রাণিত হন








