নিরঙ্কুশ জয়ে টানা চতুর্থবার ক্ষমতার পথে আওয়ামী লীগ
প্রবাস নিউজ ডেস্কঃ
দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রায় শতভাগ আসনের ফলাফল ঘোষণা শেষে নিরঙ্কুশ জয় পেয়েছে আওয়ামী লীগ। এর মাধ্যমে দলটি টানা চতুর্থবার ক্ষমতায় আসতে যাচ্ছে।
রোববার দিনগত রাত ৪টা পর্যন্ত নির্বাচন কমিশন থেকে বেসরকারিভাবে ঘোষিত ২৯৮টি আসনের ফলাফলে আওয়ামী লীগ পেয়েছে ২২৩টি আসন। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ আসন পেয়েছেন স্বতন্ত্র প্রার্থীরা, যাদের প্রায় সবাই আওয়ামী লীগের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা। এ পর্যন্ত ৬১টি আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থীদের বিজয়ী ঘোষণা করা হয়েছে।
গত দুই সংসদে প্রধান বিরোধী দলের আসনে বসা জাতীয় পার্টি এবার পেয়েছে মাত্র ১১টি আসন। যে ২৬টি আসনে তারা আওয়ামী লীগের কাছে ছাড় পেয়েছিল তার অনেকগুলোতেই জামানত হারিয়েছে।
এর বাইরে আওয়ামী লীগেরই নেতৃত্বাধীন ১৪ দলের শরিকদের মধ্যে জাসদ ও ওয়ার্কার্স পার্টি একটি করে আসন পেয়েছে। এছাড়া বিএনপি জোট থেকে বেরিয়ে আসা কল্যাণ পার্টি জয় পেয়েছে একটি আসনে।
বিএনপি ও সমমনা দলগুলোর বর্জন, তুলনামূলক কম ভোটারের উপস্থিতি হলেও রোববার মোটাদাগে শান্তিপূর্ণ নির্বাচন হয়েছে। এক প্রার্থীর মৃত্যুতে একটি আসনের ভোট পিছিয়ে যাওয়ায় এদিন ভোট হয় ২৯৯ আসনে। এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত ফলাফল পাওয়া গেছে ২৯৮ আসনের।
বিকেল ৪টায় ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার পরপরই কেন্দ্রেগুলোতে গণনা শুরু হয়। কেন্দ্রে গণনার ফলাফল প্রিজাইডিং কর্মকর্তারা পাঠান রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে।
এরই মধ্যে বিকেলে এক সংবাদ সম্মেলনে সিইসি কাজী হাবিবুল আউয়াল গণমাধ্যমকে জানান, প্রায় ৪০ শতাংশ ভোট পড়েছে এবারের জাতীয় নির্বাচনে।
এদিকে আজ (সোমবার) বিকেল সাড়ে তিনটায় সাংবাদিক ও গণমাধ্যমের সঙ্গে গণভবনে মতবিনিময় করবেন আওয়ামী লীগ সভাপতি, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
ভোটের শুরু থেকেই এবার অনুমেয় ছিল লড়াইটা হবে আওয়ামী লীগ ও স্বতন্ত্রপ্রার্থীদের মধ্যে। হলোও তাই। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত স্বতন্ত্রপ্রার্থীরা জয় পেয়েছেন ৫৬ আসনে। আরও ২০টির মতো আসনে ফলাফল ঘোষণা এখনো বাকি। সাবেক ও বর্তমান প্রতিমন্ত্রী, একাধিকবারের সংসদ সদস্যরাও ধরাশায়ী হয়েছেন স্বতন্ত্রপ্রার্থীদের কাছে।
বর্তমান সরকারের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী ডা. এনামুর রহমান, বেসরকারি বিমান ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী মাহবুব আলী এবং পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী স্বপন ভট্টাচার্য্য স্বতন্ত্রপ্রার্থীদের কাছে হেরেছেন।
হবিগঞ্জ-৪ (মাধবপুর-চুনারুঘাট) আসনে স্বতন্ত্রপ্রার্থী ব্যারিস্টার সৈয়দ সায়েদুল হক সুমনের কাছে প্রায় এক লাখ ভোটের ব্যবধানে হেরেছেন মাহবুব আলী। সুমন পেয়েছেন এক লাখ ৬৯ হাজার ৯৯ ভোট। নৌকা প্রতীকের মো. মাহবুব আলী পেয়েছেন ৬৯ হাজার ৫৪৩ ভোট। অর্থাৎ, ৯৯ হাজার ৫৫৬ ভোট বেশি পেয়েছেন ব্যারিস্টার সুমন। নানান কারণে আলোচিত ও সারাদেশের মানুষের কাছে ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করা ব্যারিস্টার সুমন ভোটের মাঠেও বাজিমাত করেছেন।
ঢাকার ২০টি আসনের মধ্যে এবার আলোচিত ছিল ঢাকা-১৯ আসন। সবার ধারণা ছিল সাবেক সংসদ সদস্য ও স্বতন্ত্রপ্রার্থী মুরাদ জং ও বর্তমান প্রতিমন্ত্রী ডা. এনামুর রহমানের সঙ্গে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে। কিন্তু সবাইকে ভুল প্রমাণ করে আলোচনায় না থাকা আরেক স্বতন্ত্রপ্রার্থী সাইফুল ইসলাম চমক দেখিয়ে জয়ী হয়েছেন। প্রতিমন্ত্রীর অবস্থান তৃতীয়।
ট্রাক প্রতীকে সাইফুল ইসলাম ৮৪ হাজার ৪১২ ভোট পেয়ে জয়ী হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী স্বতন্ত্রপ্রার্থী তালুকদার মো. তৌহিদ জং (মুরাদ) ঈগল প্রতীক নিয়ে পেয়েছেন ৭৬ হাজার ২০২ ভোট। বর্তমান এমপি ও প্রতিমন্ত্রী ডা. এনামুর রহমান পেয়েছেন ৫৬ হাজার ৩৬১ ভোট।
যশোর-৫ (মণিরামপুর) আসনে স্বতন্ত্রপ্রার্থী ইয়াকুব আলীর কাছে হেরেছেন পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী স্বপন ভট্টাচার্য্য। তিনি পেয়েছেন ৫৫ হাজার ৫৮৭ ভোট। ইয়াকুব আলী ৬০ হাজার ৯৯ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন।
- `রক্তদানে বিত্ত বৈভব নয় প্রয়োজন সেবার মানসিকতা`
- ১২ পয়েন্ট কাটা পড়লেই বাতিল ড্রাইভিং লাইসেন্স
- প্রথমবারের মতো পালিত হচ্ছে টোটাল ফিটনেস ডে
- তুরস্কের ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় শ্রমিক পাঠাতে চায় বাংলাদেশ
- ভারতে যাওয়া কমেছে বাংলাদেশিদের
- নব্বইয়ের দশকে গ্রামে আমাদের শৈশব কৈশোরের ঈদ
- বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র বাণিজ্য যে অবস্থানে
- মালয়েশিয়ার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে সমঝোতা নিয়ে দীর্ঘ বৈঠক
- চীনা বিনিয়োগকারীদের দেশে কারখানা স্থানান্তরের আহ্বান ড. ইউনূসের
- সফলতার গল্প পড়ে পাঠকেরা অনুপ্রাণিত হন








