যেমন ছিল ২০২৩ সালের অর্থনীতি, কেমন যাবে ২০২৪?
প্রবাস নিউজ ডেস্কঃ
বৈশ্বিক অস্থিরতা, দেশীয় অর্থনীতিতে চাপ, উন্নয়নশীল দেশগুলোর ওপর ঋণের বোঝা এবং যারপরনাই অনিশ্চয়তার ভেতর থেকে পার হয়েছে ২০২৩ সাল। সবার মনে এখন প্রশ্ন: কেমন যাবে ২০২৪ সাল?
বিশ্বায়নের এই যুগে বৈশ্বিক পরিস্থিতির বিভিন্ন ঘটনা দেশীয় অর্থনীতিতে সরাসরি প্রভাব ফেলছে। করোনা-পরবর্তী সময়ে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ, পরবর্তী সময়ে চীন-যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যিক যুদ্ধ, মধ্যপ্রাচ্যে ইসরাইল-ফিলিস্তিন নিয়ে অস্থিরতা; সব মিলিয়ে অমীমাংসিত কয়েক ডজন সমস্যা নিয়ে শুরু হচ্ছে ২০২৪ সাল।
চলতি বছর অক্টোবরে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২২ সালে বৈশ্বিক জিডিপির পরিমাণ ছিল সাড়ে ৩ শতাংশ, যা ২০২৩ সালে কমে ৩ শতাংশে নেমে এসেছে। ধারণা করা হচ্ছে, ২০২৪ সালে বৈশ্বিক জিডিপি আরও কমে ২ দশমিক ৯ শতাংশে গিয়ে ঠেকবে।
এর আগে ২০০০-২০১৯ সাল পর্যন্ত বৈশ্বিক গড় জিডিপির পরিমাণ ছিল ৩ দশমিক ৮ শতাংশ। সে সময়ের জিডিপির তুলনায় বর্তমান ও আগামী বছরের পূর্বনির্ধারিত জিডিপিকে প্রত্যাশিত মার্জিন লাইনের নিচের জিডিপি বলে আখ্যায়িত করেছে আইএমএফ
আইএমএফের ইকোনমিক আউটলুকের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২২ সালে বাংলাদেশের জিডিপির পরিমাণ ছিল ৭ দশমিক ১ শতাংশ, যা চলতি বছর এসে কমে দাঁড়িয়েছে ৬ শতাংশে। আইএমএফের পূর্বাভাস অনুযায়ী ২০২৪ সালে বাংলাদেশের জিডিপি বাড়া কিংবা কমার সম্ভাবনা নেই। আগামী বছরও জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৬ শতাংশ থাকবে বলে ধারণা করছে সংস্থাটি।
তবে গত বছরের তুলনায় চলতি বছর ও আগামী বছর জিডিপি প্রবৃদ্ধি কমলেও দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে ভারতের পরেই বাংলাদেশের অবস্থান। চলতি বছর দক্ষিণ এশিয়ার দেশ পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কার ছিল বেহাল দশা। পাকিস্তানের জিডিপি প্রবৃদ্ধি ছিল বিয়োগের খাতায়। তবে আইএমএফ ধারণা করছে, আগামী বছর পাকিস্তানের জিডিপি প্রবৃদ্ধি হবে ২ দশমিক ৫ শতাংশ।
আইএমএফের হিসাব অনুযায়ী, আগামী বছর সবচেয়ে ভালো অবস্থানে থাকবে দক্ষিণ এশিয়ার উন্নয়নশীল দেশগুলো। যেখানে ২০২৪ সালে যুক্তরাষ্ট্রের জিডিপি প্রবৃদ্ধি ধরা হয়েছে ১ দশমিক ৫ শতাংশ, সেখানে এশিয়ার উন্নয়নশীল দেশগুলোর জিডিপি ৪ দশমিক ৮ শতাংশ, যা আগামী বছরের জন্য বিশ্বে সর্বোচ্চ লক্ষ্যমাত্রার জিডিপি।
২০২৩ সালে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ ছিল ডলার সংকট প্রশমন, মূল্যস্ফীতি সামাল দেয়া, ব্যাংকিং খাত ঠিক রাখা, রিজার্ভের ওপর চাপ কমানো এবং সামগ্রিক অর্থনীতিকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া। কিছু কিছু চ্যালেঞ্জে সমাধান না এলেও প্রশমনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে বলে মত সংশ্লিষ্টদের।
সম্প্রতি ন্যাশনাল নিউজের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলতি বছর ফেডারেল রিজার্ভ থেকে শুরু করে বিশ্বের অন্যান্য কেন্দ্রীয় ব্যাংক মূল্যস্ফীতি সামাল দিতে সুদের হার বাড়িয়েছে। সুদের হার বাড়িয়ে মূল্যস্ফীতি সামালের এই বিষয়টি অর্থনীতির গতিশীলতাকে ব্যাহত করছে। তবে বর্তমানে দেশে দেশে মূল্যস্ফীতি সহনীয় পর্যায়ে নেমে আসায় এবং কয়েক দফায় ফেডারেল রিজার্ভ সুদের হার না বাড়ানোয়, ২০২৪ সালের অর্থনীতিতে গতিশীলতা আসার সম্ভাবনা রয়েছে।
অক্টোবরে ‘বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট আপডেট, নিউ ফ্রন্টিয়ার্স ইন পভার্টি রিডাকশন’ শীর্ষক প্রতিবেদনে বিশ্বব্যাংক ২০২৪ সালে বাংলাদেশের অর্থনীতির পূর্বাভাস দিয়ে জানিয়েছে, ২০২৩ সালে দেশের জিডিপি কমেছে, এটি আগের পর্যায়ে আসার আগে আরেক দফা কমবে। তবে ২০২৫ সালে বাংলাদেশের অর্থনীতি পুনরায় ঘুরে দাঁড়াবে।
বিশ্বব্যাংকের হিসাব অনুযায়ী, ২০২৪ সালের মাঝামাঝি পর্যন্ত দেশের অর্থনীতি চাপের মধ্যে থাকবে। এরপর ধাপে ধাপে স্বাভাবিক হতে শুরু করবে। ২০২৫ সালে জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৫ দশমিক ৮ শতাংশে দাঁড়াবে বলে জানিয়েছে ওয়াশিংটনভিত্তিক আন্তর্জাতিক এ সংস্থাটি।
দেশের অর্থনীতিবিদরা বলছেন, বছরের শুরুতে নির্বাচনের ওপর আগামী বছরের অর্থনীতি অনেকখানি নির্ভর করে। নির্বাচনের পর দেশের পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকলে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির পথ সুগম হবে বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।
২০২৪ সালের দেশের অর্থনীতি প্রসঙ্গে অর্থনীতিবিদ এম এম আকাশ সময় সংবাদকে বলেন, ২০২৪ সালের অর্থনীতি কেমন যাবে এটি নির্ভর করছে অনেক ‘যদি’র ওপর। যদি নির্বাচনের পর রাজনৈতিক সংকট প্রলম্বিত হয়, তাহলে অর্থনীতির ওপর চাপ বাড়বে। রাজনৈতিক সংকট যদি দেশের অভ্যন্তরে আবদ্ধ থাকে, তাহলে চাপের প্রভাব কিছুটা কম হবে। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র থেকে শুরু করে পশ্চিমারা যদি বাংলাদেশের নির্বাচন প্রত্যাখ্যান করে, তাহলে বড় রকমের চাপের মুখে পড়বে দেশের অর্থনীতি।
আগামী বছর বাংলাদেশের ওপর পশ্চিমাদের নিষেধাজ্ঞা প্রসঙ্গে এম এম আকাশ বলেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি সত্যিই বাংলাদেশের পোশাক খাতের ওপর নিষেধাজ্ঞা দেয়, তাহলে বাংলাদেশের রফতানির সবচেয়ে বড় খাতটির ৩৩ শতাংশ ব্যাহত হবে। যদি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পশ্চিমারাও যোগ দেয়, তাহলে এই ক্ষতির পরিধি বেড়ে দাঁড়াবে ৪০ শতাংশে। এতে দেশের রিজার্ভে ডলার সংকটের মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে।
তবে পশ্চিমারা নিষেধাজ্ঞা দিলে চীন ও রাশিয়া যদি বাংলাদেশের পাশে দাঁড়ায় এবং শক্তিধর এই দুটি দেশের হাত ধরে বাংলাদেশ যদি ডলারের ওপর নির্ভরশীলতা কমিয়ে আনতে পারে, তাহলে ঘুরে দাঁড়াতে বাংলাদেশের সময় লাগবে না বলে জানান এ অর্থনীতিবিদ।
বাংলাদেশের শক্তিমত্তার কথা উল্লেখ করে আকাশ বলেন, বাংলাদেশ খাদ্য এবং কৃষিতে স্বয়ংসম্পূর্ণ; এটিই বাংলাদেশের টিকে থাকার সবচেয়ে বড় শক্তি। তবে জ্বালানি খাতে বাংলাদেশের কিছু ভুল নীতি আগামী বছর ভোগাতে পারে বলে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন তিনি।
এদিকে ডলার সংকটের কথা উল্লেখ করে বিশ্বব্যাংক জানিয়েছে, বাংলাদেশের অর্থনীতির ওপর বড় একটি চাপ ব্যালেন্স অব পেমেন্টের মারাত্মক ঘাটতি। মূলত আমদানি পণ্যের দাম পরিশোধ, ঋণ পরিশোধসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে বাংলাদেশ থেকে যে অর্থ খরচ হয় এবং এর বিপরীতে রফতানি আয়, অনুদান, ঋণ ও রেমিট্যান্স হিসেবে যে পরিমাণ অর্থ আয় হয় তার পার্থক্যের পরিমাণ বাংলাদেশকে ২০২৪ সালে ভোগাতে পারে বলে আশঙ্কা করছে বিশ্বব্যাংক।
তবে সঠিক পরিকল্পনার মাধ্যমে মুদ্রার একক বিনিময় হার হুন্ডি ও অর্থ পাচার কমিয়ে আনতে পারে। অতি শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংক এ ব্যাপারে পদক্ষেপ নিতে সক্ষম হলে ২০২৪ সালে রিজার্ভের ওপর চাপ অনেকটা কমে আসবে বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।
- `রক্তদানে বিত্ত বৈভব নয় প্রয়োজন সেবার মানসিকতা`
- ১২ পয়েন্ট কাটা পড়লেই বাতিল ড্রাইভিং লাইসেন্স
- প্রথমবারের মতো পালিত হচ্ছে টোটাল ফিটনেস ডে
- তুরস্কের ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় শ্রমিক পাঠাতে চায় বাংলাদেশ
- ভারতে যাওয়া কমেছে বাংলাদেশিদের
- নব্বইয়ের দশকে গ্রামে আমাদের শৈশব কৈশোরের ঈদ
- বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র বাণিজ্য যে অবস্থানে
- মালয়েশিয়ার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে সমঝোতা নিয়ে দীর্ঘ বৈঠক
- চীনা বিনিয়োগকারীদের দেশে কারখানা স্থানান্তরের আহ্বান ড. ইউনূসের
- সফলতার গল্প পড়ে পাঠকেরা অনুপ্রাণিত হন








