ঢাকা, ২০২৬-০৭-৩১ | ১৬ শ্রাবণ,  ১৪৩৩

নির্বাচনের আগে ঋণ নিয়মিত করার হিড়িক, কমল খেলাপি ঋণ

প্রবাস নিউজ ডেস্কঃ

প্রকাশিত: ০২:৪১, ২২ নভেম্বর ২০২৩  

দেশের ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণের পরিমাণ আগের প্রান্তিকের চেয়ে ৬৪২ কোটি টাকা কমেছে। ব্যাংক খাতে এখন খেলাপি ঋণের পরিমাণ এক লাখ ৫৫ হাজার ৩৯৭ কোটি টাকা। নির্বাচনের আগে ঋণ পুনঃ তফসিলীকরণ বাড়ার কারণে খেলাপি ঋণের পরিমাণ কমছে বলে জানান বাংলাদেশ ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। 

বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য বলছে, চলতি বছরের সেপ্টেম্বর প্রান্তিক শেষে দেশের ব্যাংকিং খাতের মোট বিতরণকৃত ঋণের পরিমাণ ১৫ লাখ ৬৫ হাজার ১৯৫ কোটি টাকা।

এর মধ্যে খেলাপি ঋণে পরিণত হয়েছে এক লাখ ৫৫ হাজার ৩৯৭ কোটি টাকা। এটি মোট বিতরণকৃত ঋণের ৯.৯৩ শতাংশ। এটি গত বছরের (সেপ্টেম্বর-২০২২) একই সময়ের চেয়ে ২৩ হাজার এক কোটি টাকা বেশি। গত বছরের সেপ্টেম্বর শেষে খেলাপি ঋণের পরিমাণ ছিল এক লাখ ৩৪ হাজার ৩৯৬ কোটি টাকা।

 

 

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য বলছে, চলতি বছরের জুন প্রান্তিক শেষে দেশের ব্যাংকিং খাতের মোট বিতরণকৃত ঋণের পরিমাণ ছিল ১৫ লাখ ৪২ হাজার ৬৫৫ কোটি টাকা। এর মধ্যে খেলাপি ঋণে পরিণত হয়েছিল এক লাখ ৫৬ হাজার ৩৯ কোটি টাকা। এটি মোট বিতরণকৃত ঋণের ১০.১১ শতাংশ। প্রান্তিকটিতে দেশের ইতিহাসে অতীতের সব রেকর্ড ভেঙেছে খেলাপি ঋণ

 

আর মার্চ শেষে খেলাপি ঋণের পরিমাণ ছিল এক লাখ ৩১ হাজার ৬২০ কোটি ৮০ লাখ টাকা বা মোট ঋণের ৮.৮০ শতাংশ। সে হিসাবে ছয় মাসের ব্যবধানে সর্বশেষ প্রান্তিকে খেলাপি ঋণ ২৩ হাজার ৭৭৭ কোটি টাকা বেড়ে এক লাখ ৫৫ হাজার ৩৯৭ কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে। গত বছরের জুন শেষে খেলাপি ঋণ ছিল এক লাখ ২৫ হাজার ২৫৭ কোটি টাকা। 

এর আগে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আব্দুর রউফ তালুকদার জানিয়েছিলেন, করপোরেট গভর্ন্যান্স ও খেলাপি ঋণ দেশের ব্যাংকিং খাতের বড় দুই সমস্যা। খেলাপি ঋণ কমাতে ব্যাংকগুলোর ব্যবস্থাপনা পরিচালকদের আরো ভূমিকা নিতে হবে

 

 

আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) ঋণের অর্থ ছাড়ের ক্ষেত্রে সংস্থাটি ব্যাংক খাতের খেলাপি ঋণও ধাপে ধাপে কমিয়ে আনার শর্ত জুড়ে দেয়। ২০২৬ সালের মধ্যে বেসরকারি খাতে খেলাপি ঋণ ৫ শতাংশের নিচে এবং সরকারি ব্যাংককে ১০ শতাংশের নিচে নামাতে হবে। সর্বশেষ প্রতিবেদন মতে, খেলাপি ঋণের হার ১০ শতাংশের নিচে এলো অর্থ ৯.৯৩ শতাংশ। 

বিশ্বব্যাংকের ঢাকা কার্যালয়ের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ জাহিদ হোসেন বলেন, ‘খেলাপি ঋণ বন্ধে আমাদের দৃশ্যমান কোনো উদ্যোগ নেই। এ নিয়ে কার্যকর পদক্ষেপও নেই কেন্দ্রীয় ব্যাংকের। খেলাপির যে চিত্র উঠে এসেছে প্রকৃত চিত্র এটা নয়। প্রকৃত চিত্র আরো ভয়াবহ।’

 

সর্বশেষ
জনপ্রিয়