ঢাকা, ২০২৬-০৭-৩১ | ১৬ শ্রাবণ,  ১৪৩৩

ভারতের নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ বাড়লেও প্রভাব পড়বে না দেশের চালের বাজারে

প্রবাস নিউজ ডেস্কঃ

প্রকাশিত: ০২:১৪, ২২ নভেম্বর ২০২৩  

আগামী বছরও চাল রফতানিতে বিদ্যমান নিষেধাজ্ঞা অব্যাহত রাখতে পারে বিশ্বের শীর্ষ চাল রফতানিকারক দেশ ভারত। তবে এর প্রভাব দেশের বাজারে পড়বে না বলে জানিয়েছেন চাল ব্যবসায়ীরা।

দেশের চালের বাজার বর্তমানে কিছুটা স্থিতিশীল।

 

দেশের বাজারে ঊর্ধ্বমুখী চালের বাজার বর্তমানে কিছুটা স্থিতিশীল। চলতি সপ্তাহে নতুন করে বাড়েনি দাম। বাজার ঘুরে দেখা গেছে, গত সপ্তাহে কেজিতে ২ থেকে ৪ টাকা বেড়ে প্রতিকেজি আঠাইশ ৫২ থেকে ৫৪ টাকা, নাজিরশাইল ৭৬ থেকে ৮৪ টাকা ও মিনিকেট ৬৫ থেকে ৭৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

ব্যবসায়ীরা বলছেন, গত ১৫-২০ দিনে কেজিতে প্রায় ৪ টাকা বেড়েছে চালের দাম। পাইকারি বাজারে সরু ও মোটা চালের দাম বস্তাপ্রতি বেড়েছে ১০০ থেকে ২০০ টাকা। গরিবের চাল ব্রি-২৮ এর দাম বেড়েছে কেজিতে ৩ থেকে ৪ টাকা। একই অবস্থা মাঝারি মানের চালেরও।

 

তবে এই মুহূর্তে বাজারে চালের কোনো সংকট নেই বলে জানিয়েছেন রাজধানীর কারওয়ানবাজারের ব্যবসায়ীরা। তারা জানান, দাম বাড়তির বিষয়ে একে অপরকে দুষছেন মিল মালিক ও আড়তদাররা।

 

 

 বাজারে চালের কোনো সংকট নেই বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। 

 

রাজধানীর বাজার ঘুরে দেখা গেছে, পাইকারি ও খুচরা বাজারে পর্যাপ্ত সরবরাহ থাকার পরও বাড়তি দামে বিক্রি করা হচ্ছে সব ধরনের চাল। চালকল মালিকদের দাবি, অবরোধ ও হরতালে পরিবহন ব্যয় বেড়েছে।

 

কুষ্টিয়ার ইফাদ এগ্রো লিমিটেডের প্রোপাইটর ওমর ফারুক বলেন, কোন ধান বা চাল পুরানো হলে স্বাভাবিকভাবেই দাম বাড়ে। তবে নতুন ধান উঠলে চালের দাম কমে  আসবে।

 

নওগার জেলা অটো মেজর হাসকি মিল মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ তৌফিকুল ইসলাম বাবু বলেন,

 

অবরোধের কারণে গাড়ি চলাচল কমেছে। পাশাপাশি বেড়েছে গাড়ির ভাড়া। তারই প্রভাব পড়েছে চালের বাজারে।

 

এদিকে রাজধানীর কারওয়ানবাজারের আল্লাহর দান রাইছের মালিক মো. আব্দুল আউয়াল তালুকদার বলেন, বাজারে চালের কোনো সংকট নেই। মূলত হরতাল-অবরোধের অজুহাত দিয়ে দাম বাড়িয়েছেন মিল মালিকরা।

 

শিগগিরই চালের দাম কমে আসবে জানিয়ে আব্দুল আউয়াল বলেন, অগ্রহায়ণে নতুন চাল আসবে। তখন কমবে চালের দাম। তবে নির্বাচনের আগে নিশ্চিতভাবে কিছুই বলা যাচ্ছে না।

 

মেসার্স মান্নান রাইসের মালিক নাজির আহমেদ বলেন,

 

মিল মালিকরা বেশি মুনাফার আশায় দাম বাড়িয়েছেন। দাম শিগগিরই কমে আসবে। তবে ভারত চাল রফতানিতে নিষেধাজ্ঞা বাড়ালেও এর প্রভাব দেশের বাজারে পড়বে না।

 

আর কারওয়ানবাজার চাল ব্যবসায়ী সমিতির সহসাধারণ সম্পাদক ও মের্সাস মতলব টেডার্সের স্বত্বাধিকারী আবু রায়হান জগলু জানান, বাজারে চালের কোনো সংকট নেই। মূলত মিল মালিকদের কারসাজিতে বাজারে দাম বেড়েছিল। শিগগিরই দাম নিয়ন্ত্রণে আসবে।

 

ভারতের চাল রফতানি নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ বাড়ানো প্রসঙ্গে তিনি বলেন,

 

দেশে পর্যাপ্ত পরিমাণ চাল রয়েছে। ভারতে নিষেধাজ্ঞার কোনো প্রভাবই দেশের চালের দামে পড়বে না।

 

এদিকে অর্থনৈতিক সাময়িকী ব্লুমবার্গ এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, আগামী বছরও ভারত চাল রফতানিতে বিদ্যমান নিষেধাজ্ঞা অব্যাহত রাখতে পারে। এটি বিশ্বব্যাপী খাদ্য সংকটকে আরও বাড়িয়ে দিতে পারে।

 

বিগত এক দশকে ভারত বিশ্বের শীর্ষ চাল রফতানিকারক দেশে পরিণত হয়েছে কম দাম ও পর্যাপ্ত মজুত থাকার কারণে। দেশটি বর্তমানে বিশ্বের মোট চাল রফতানির প্রায় ৪০ শতাংশ সরবরাহ করে থাকে। বেনিন ও সেনেগালের মতো আফ্রিকান দেশগুলো হচ্ছে ভারতীয় চালের শীর্ষ ক্রেতা।

 

কিন্তু নির্বাচনের আগে দেশের অভ্যন্তরীণ বাজারে খাদ্যমূল্য স্থিতিশীল রাখতে এবং ভোক্তাদের স্বার্থ রক্ষায় চাল রফতানির ওপর বেশ কয়েক দফায় বিধিনিষেধ আরোপ করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।

 

তবে নির্বাচনের পরও সরকার এ বিধিনিষেধ বজায় রাখবে - এমন আশঙ্কা প্রকাশ করে নোমুরা হোল্ডিংস ইনকরপোরেটেডের ভারত ও এশিয়ার প্রধান অর্থনীতিবিদ সোনাল ভার্মা বলেন, যতদিন ভারতের অভ্যন্তরীণ চালের বাজার চাপের মুখে থাকবে, ততদিন এই বিধিনিষেধ থাকবে। এমনকি নির্বাচনের পরও যদি স্থানীয় বাজারে চালের দাম নিয়ন্ত্রণে না আসে, তাহলে এসব বিধিনিষেধের মেয়াদ আরও বাড়তে পারে।

 

উল্লেখ্য, গত ২০ জুলাই বিশ্বের বৃহত্তম চাল রফতানিকারক দেশ ভারত বাসমতি ছাড়া অন্য সব চাল রফতানির ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। দেশটির মোট চাল রফতানির প্রায় ৮০ শতাংশই হচ্ছে বাসমতি ছাড়া অন্য সব জাতের চাল। পরে ২৫ আগস্ট থেকে সিদ্ধ চাল রফতানির ওপর ২০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করে দেশটি। এরপর বাসমতি চাল রফতানিতে টনপ্রতি ন্যূনতম দাম বেঁধে দেয় ভারত সরকার। ফলে  টনপ্রতি কমপক্ষে ১ হাজার ২০০ ডলারে বাসমতি চাল রফতানি করতে হচ্ছে ভারতীয় ব্যবসায়ীদের।

 

দেশটির এমন সিদ্ধান্তের পরিপ্রেক্ষিতে গত আগস্ট মাসে চালের দাম ১৫ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ স্তরে উঠে যায়। অন্যদিকে, অনেক আমদানিকারক দেশের ক্রেতারা চাল আমদানি বন্ধ রেখেছেন, আবার কেউ কেউ ছাড়ের জন্যও অনুরোধ করেছেন। জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার মতে, চলতি বছরের অক্টোবর মাসে বিশ্বব্যাপী চালের দাম গত বছরের একই সময়ে তুলনায় ২৪ শতাংশ বেশি

 

মোদি সরকার স্থানীয় বাজারে চালের পর্যাপ্ত সরবরাহ নিশ্চিতের পাশাপাশি দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে চায় উল্লেখ করে রাইস এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের প্রেসিডেন্ট বিভি কৃষ্ণ রাও বলেন,

 

সরকার আগামী বছরের ভোট হওয়া পর্যন্ত চাল রফতানিতে বিধিনিষেধ জারি রাখবে। ভারতের খাদ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুসারে, নয়াদিল্লিতে খুচরা পর্যায়ে চালের দাম বছর ব্যবধানে ১৮ শতাংশ বেড়েছে, আর গমের দাম বেড়েছে ১১ শতাংশ।

 

ভারতের খাদ্য ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের একজন মুখপাত্র ব্লুমবার্গকে জানিয়েছেন, সরকার খাদ্যের দামের ওপর কঠোর নজরদারি করছে এবং ভোক্তা ও কৃষকদের স্বার্থের কথা মাথায় রেখেই রফতানি সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।

 

সর্বশেষ
জনপ্রিয়