ঢাকা, ২০২৬-০৮-০৩ | ১৮ শ্রাবণ,  ১৪৩৩

জাজিরার ব্রান্ডিং কালোজিরার মধু এবং মিক্স মধু নিয়ে মৌ মেলা

প্রবাস নিউজ ডেস্কঃ

প্রকাশিত: ১৮:৪৫, ৮ মার্চ ২০২৩  

শরীয়তপুরের জাজিরায় উৎপাদিত উন্নত মানের পুষ্টি গুন সমৃদ্ধ কালোজিরার মধুকে "জাজিরার কালোজিরার মধু" নামে ব্রান্ডিং করণে জেলা প্রশাসন ও কৃষি বিভাগ শরীয়তপুরের উদ্যোগে উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা কৃষি অফিসারের কার্যালয় জাজিরার আয়োজনে মৌ মেলা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার (৮-মার্চ) দিনব্যাপী উপজেলা পরিষদ মাঠে এই মৌ মেলা অনুষ্ঠিত হয়।

মেলায় ইভা মৌ খামার, মুন্না মৌ খামার, হাজকা মৌ খামার, হামজা মৌ খামার এবং সততা মৌ খামারসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আগত মোট ১২ টি কালোজিরা মৌ খামার অংশ নেয়। এসময় কালোজিরার মধুর পাশাপাশি সরিষা, লিচু, সুন্দরবনের বিভিন্ন মধুর পসরা বসান খামারীরা। যে মধু ক্রয়ে মানুষের ব্যাপক আগ্রহ দেখা যায়।

মেলায় মধু কিনতে আসা নিজাম উদ্দিন শিকদার বলেন, আমাদের উপজেলায় এই ধরণের মেলায় আমরা বিভিন্ন খামারের মধু দেখে এবং কালোজিরার মধু কেনার সুযোগ পাই বলেই এই মেলার জন্য আমরা অপেক্ষা করি, আজ এখানে মধু কিনতে পেরে খুব ভাল লাগছে।এছাড়া মেলায় বিভিন্ন অনলাইন ও সুপারশপ থেকে আগত প্রতিনিধিরা মধু কিনে তারা মধু প্রসেসিং করে তাদের নিজস্ব শো রুমে বিক্রি করবেন বলে জানান।

মেলায় অংশগ্রহন কারী "ইভা মৌ খামার" এর স্বত্বাধিকারী জাহিদ হোসেন বলেন" আমাদের জাজিরার কালোজিরার মধুর চাহিদা সারা বছর থাকে এবং তুলনামূলক ভালো দাম পাই এবং ক্রেতারাও সুলভ মূল্যে মধু ক্রয় করতে পারেন। এই ধরনের মেলা ক্রেতাদের কাছে আমাদের খাটিমানের মধু পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে চমৎকার ভূমিকা রাখে।

মেলায় আগত মৌ বিশেষজ্ঞ কৃষিবিদ মোঃ নাজমুল হুদা বলেন, বাংলাদেশে মৌ চাষের একটি ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে। এখন দরকার এই মৌ চাষকে সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেয়া এবং মহাগুরুত্বপূর্ণ এই ভেষজকে মানুষের মাঝে জনপ্রিয় করা। সেক্ষেত্রে এই ধরনের উদ্যোগকে সাধুবাদ জানাই।

মৌ মেলার আয়োজন বিষয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মোঃ জামাল হোসেন বলেন, জাজিরা উপজেলায় মশলা ফসল চাষের জন্য বিখ্যাত। সেখানে আমারা ফসলের মাঠে মৌ চাষের উদ্যোগ নেওয়ার ফলে পরাগায়নের বৃদ্ধিতে একদিকে যেমন উৎপাদন বৃদ্ধি পাচ্ছে প্রায় ১৭% অন্যদিকে মৌ চাষের মাধ্যমে বাড়তি একটি আয় ও কর্মসংস্থানের সৃষ্টি হচ্ছে সেটি কে ছড়িয়ে দিতেই আমাদের এই প্রচেষ্টা।

জাজিরাতে মৌ চাষের বিষয়ে বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণে সার্বিক সহযোগিতায় থাকা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ কামরুল হাসান সোহেল বলেন, শরীয়তপুর জেলার একটি অগ্রাধিকার মূলক ব্রান্ডিং কার্যক্রম হলো জাজিরার কালোজিরার মধুকে দেশীয় ও আন্তর্জাতিক ব্রান্ডিংয়ে পরিনত করা। স্বপ্নের পদ্মা সেতুর সাহায্য আমাদের এই প্রচেষ্টাকে আরও বেগবান করবে এবং স্থানীয় সম্পদের সর্বোচ্চ ব্যবহারের মাধ্যমে বেকার সমস্যা দূর করতে নতুন নতুন মৌ শিল্পের বিকাশে এই মেলা গুরুত্বপূর্ণ কাজ করবে বলে আমরা বিশ্বাস করি।

উল্লেখ্যঃ জাজিরাতে এই বছর ১০৫০ হেক্টর জমিতে কালোজিরার চাষ হয়েছে যেখানে ৫৬৭৮ টি মৌ বক্স স্থাপন করে প্রায় ৬৭ মেট্রিক টন কালোজিরার মধু পাওয়া গেছে যার বাজার মূল্য প্রায় ৫ কোটি ৩৬ লাখ টাকা। যাযাদি/ এম

সর্বশেষ
জনপ্রিয়