বঙ্গবন্ধু টানেল ঘিরে ৫ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের পরিকল্পনা চট্টগ্রাম
প্রবাস নিউজ ডেস্ক:
কর্ণফুলী নদীর তলদেশে তৈরি হওয়া বঙ্গবন্ধু টানেল ঘিরে অন্তত ৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগের পরিকল্পনা নিয়েছে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ। এর মধ্যে চলতি বছরেই ডেনমার্কভিত্তিক প্রতিষ্ঠান মার্কস লাইনের ১ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগে নতুন কনটেইনার ইয়ার্ড নির্মাণের চুক্তি হতে যাচ্ছে। এছাড়া আগামী দুই বছরের মধ্যে ৪টি দেশের ৪টি কোম্পানি বাকি অর্থ বিনিয়োগ করবে। চট্টগ্রাম বন্দর সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
বঙ্গবন্ধু টানেলের শতভাগ অবকাঠামোগত নির্মাণ কাজ শেষে এখন চলছে চূড়ান্ত রঙের প্রলেপ
বঙ্গবন্ধু টানেলের অবকাঠামোগত নির্মাণের শতভাগ কাজ শেষ হয়েছে অনেক আগেই। উদ্বোধনের কাছাকাছি সময়ে এসে এখন চলছে বঙ্গবন্ধু টানেলে চূড়ান্ত রঙের প্রলেপ। তাই এই টানেলকে ঘিরে বিনিয়োগের মহাপরিকল্পনা নিয়েছে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ। বিশেষ করে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে দাঁড়িয়েছে দক্ষিণ এশিয়ার একমাত্র নদীর তলদেশের এই টানেল।
এরইমধ্যে বিদেশি ৭টি প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে ৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের বিনিয়োগ প্রস্তাব পেয়েছে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ। চলতি বছরেই শুরু হচ্ছে নতুন একটি কনটেইনার টার্মিনাল নির্মাণের কাজ। টানেল কেন্দ্র করে মাত্র ৫ থেকে ১০ বর্গমাইলের মধ্যেই হবে বিশাল এই বিনিয়োগ।
চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল এম সোহায়েল।
এবিষয়ে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল এম সোহায়েল বলেন,
এই টানেলকে কেন্দ্র করে টার্মিনালগুলোতে তাৎক্ষণিকভাবে ১ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ আসছে। তবে আগামী ২ থেকে ৫ বছরের মধ্যে এখানে আরও ৪ থেকে ৫ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ আসবে।
চীনের সাংহাই নগরীর আদলে ওয়ান সিটি টু টাউন কনসেপ্টে গড়ে তোলা হয়েছে কর্ণফুলী নদীর তলদেশের বঙ্গবন্ধু টানেল এবং তার আশপাশের শিল্পাঞ্চল। এরমধ্যে চট্টগ্রাম বন্দরের পতেঙ্গা কনটেইনার টার্মিনালে সৌদি আরবের রেড সি গেটওয়ে এবং নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনালে দুবাইয়ের ডিপি ওয়ার্ল্ড বিনিয়োগের আগ্রহ দেখিয়েছে। এছাড়া প্রস্তাবিত বে টার্মিনালে ডি পি ওয়ার্ল্ড এবং রেড সি ছাড়াও সিঙ্গাপুর পোর্ট অথরিটি, ভারতের আদানি গ্রুপ ও নেদারল্যান্ডসের এপি টার্মিনালের বিনিয়োগের প্রস্তাব আলোচনা পর্যায়ে রয়েছে। তাছাড়া টানেলের একেবারে কাছে লালদিয়ার চরে বিনিয়োগ করবে ডেনমার্কের মার্কস লাইন।
বঙ্গবন্ধু টানেলের সম্ভাবনার কথা তুলে ধরে ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (এফবিসিসিআই) সভাপতি মাহবুবুল আলম বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু টানেল একটি যুগান্তকারী স্থাপনা হতে যাচ্ছে। এখানে টুইন সিটি হবে, পাশাপাশি চট্টগ্রামের দক্ষিণ অঞ্চলে শিল্পায়ন হবে। কাজেই সাংহাইয়ের মতো এটিও দেশের অর্থনীতিতে ভূমিকা রাখবে।’

সমীক্ষা অনুসারে, ২০৩০ সালে বঙ্গবন্ধু টানেল দিয়ে ৩৫ হাজারের বেশি গাড়ি পারাপার হবে।
প্রথম বছরে এই টানেল দিয়ে ১৭ হাজারের বেশি গাড়ি পারাপার হবে বলে সমীক্ষায় উঠে এসেছে। একই সঙ্গে মাতারবাড়ি গভীর সমুদ্র বন্দর এবং মিরসরাই ইকোনোমিক জোনের যোগাযোগ স্থাপনে সেতুবন্ধন হবে চট্টগ্রাম বন্দর। এ প্রসঙ্গে চট্টগ্রাম চেম্বার অব কমার্সের সভাপতি ওমর হাজ্জাজ বলেন, ভবিষ্যতে আমরা এই অঞ্চলটিকে ঢাকা-চট্টগ্রাম করিডোরে রূপান্তর করবো, তাই আমাদের জন্য বঙ্গবন্ধু টানেল একটি গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠোমো।
উল্লেখ্য, ১০ হাজার ৩৭৫ কোটি টাকা খরচ করে ৩ দশমিক ৩২ কিলোমিটার দীর্ঘ এই টানেল চট্টগ্রাম শহর থেকে দক্ষিণ চট্টগ্রাম হয়ে কক্সবাজারের যাত্রা পথ অন্তত দেড় ঘণ্টা কমিয়ে আনবে। আগামী ২৮ অক্টোবর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার এই টানেলের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করার কথা রয়েছে।

আগামী ২৮ অক্টোবর বঙ্গবন্ধু টানেল উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
আর মাত্র কয়েক বছর, এরপর দক্ষিণ এশিয়ার বিজনেস হাব হয়ে উঠবে বৃহত্তর চট্টগ্রাম। বঙ্গবন্ধু টানেল উদ্বোধনের আগেই ৫ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের প্রস্তাব এসেছে চট্টগ্রাম বন্দরের কাছে। এছাড়া আরও কিছু বিনিয়োগের প্রস্তাব সরকারের বিবেচনায় রয়েছে। আগামীতে এটিই হয়ে উঠবে পুরো একটি শিল্পাঞ্চল, এমনটাই মনে করেন বিশ্লেষকরা।
- `রক্তদানে বিত্ত বৈভব নয় প্রয়োজন সেবার মানসিকতা`
- ১২ পয়েন্ট কাটা পড়লেই বাতিল ড্রাইভিং লাইসেন্স
- প্রথমবারের মতো পালিত হচ্ছে টোটাল ফিটনেস ডে
- তুরস্কের ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় শ্রমিক পাঠাতে চায় বাংলাদেশ
- ভারতে যাওয়া কমেছে বাংলাদেশিদের
- নব্বইয়ের দশকে গ্রামে আমাদের শৈশব কৈশোরের ঈদ
- বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র বাণিজ্য যে অবস্থানে
- মালয়েশিয়ার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে সমঝোতা নিয়ে দীর্ঘ বৈঠক
- চীনা বিনিয়োগকারীদের দেশে কারখানা স্থানান্তরের আহ্বান ড. ইউনূসের
- সফলতার গল্প পড়ে পাঠকেরা অনুপ্রাণিত হন








