ঢাকা, ২০২৬-০৮-০১ | ১৭ শ্রাবণ,  ১৪৩৩

আইএমএফের দ্বিতীয় কিস্তি পাওয়া নিয়ে শঙ্কা

প্রবাস নিউজ ডেস্কঃ

প্রকাশিত: ২২:০০, ৫ অক্টোবর ২০২৩  

আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) দেয়া শর্ত মেনে পর্যাপ্ত রিজার্ভ রাখতে পারেনি বাংলাদেশ ব্যাংক। এ অবস্থায় চলতি মাসে অনুমোদিত ঋণের দ্বিতীয় কিস্তি মিলবে কিনা তা নিয়ে দেখা দিয়েছে শঙ্কা। যেখানে গত সেপ্টেম্বর মাসেও রফতানি আয় আর রেমিট্যান্সে ধস দেখেছে বাংলাদেশ। ডলার সংকটে এলসি জটিলতায় আশার আলোও দেখছেন না রফতানিকারকরা।

আইএমএফ'র শর্তানুযায়ী ঋণ পেতে ডিসেম্বরে দেশের প্রকৃত রিজার্ভ থাকতে হবে ২ হাজার ৬৮০ কোটি ডলার। ফাইল ছবি

কামরুল হাসান সবুজ

বৈঠকের পর বৈঠকে নানা শঙ্কা কাটিয়ে গত জানুয়ারিতে আইএমএফ থেকে মিলেছে ৪৭০ কোটি ডলারের ঝণ। অনুমোদনের পরপরই ফেব্রুয়ারির শুরুতেই সংস্থাটি ছাড়ও দিয়েছে প্রথম কিস্তির ৪৭ কোটি ৬০ লাখ ৭০ হাজার ডলার।

আসছে নভেম্বরে আসার কথা দ্বিতীয় কিস্তির ডলার। তা ছাড়ের আগে জুড়ে দেয়া শর্ত পরিপালনে বাংলাদেশের অগ্রগতি পর্যবেক্ষণে আইএমএফ'র প্রতিনিধি দল এখন বাংলাদেশে। বুধবার (৪ অক্টোবর) থেকে তারা কেন্দ্রীয় ব্যাংকসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সংস্থার সঙ্গে বৈঠক করছেন।

জানা গেছে শর্ত মতে, গত জুনে প্রকৃত রিজার্ভ থাকার কথা ছিল ২ হাজার ৪৪৬ কোটি ডলার এবং সেপ্টেম্বরে ২ হাজার ৫৩০ কোটি ডলার।

এর বিপরীতে বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য বলছে, জুনে দেশের মোট রিজার্ভ ছিল ৩ হাজার ১২০ কোটি ডলার। আইএমএফের হিসাব পদ্ধতিতে যা ছিল ২ হাজার ৪৭৫ কোটি ডলার। ২৭ সেপ্টেম্বরে রিজার্ভে নেমে আসে ২ হাজার ৭০৫ কোটিতে আর ২ হাজার ১১৫ কোটি ডলারে। তবে প্রকৃত রিজার্ভের তথ্য প্রকাশ করেনি বাংলাদেশ ব্যাংক, যা জানানো হয়েছে দাতা সংস্থাটিকে। এটি ২ হাজার কোটি ডলারের মতো হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

 

যখন এমন নিম্নগামী রিজার্ভের হিসাব, তখন আবার ডলারের যোগানদাতা রফতানি আয়ও কমেছে। আগস্টের ৪৭৮ কোটি ২২ লাখ ডলারের রফতানি আয় সেপ্টেম্বরে নেমেছে ৪৩১ কোটি ডলারে। তাই নানা জটিলতায় আশার আলোও দেখছেন না প্রধান রফতানিখাতের উদ্যোক্তারা।

 

এ বিষয়ে বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টারস অ্যাসোসিয়েশেনের নির্বাহী সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম বলেন, 

এ মুহূর্তে অনেক কারখানা বন্ধ হয়ে যাওয়ার দ্বারপ্রান্তে রয়েছে। বর্তমানে প্রত্যেকটি কারখানা ব্যাংকের সঙ্গে নানা জটিলতায় ভুগছে। যেমন, সময়মতো এলসি (ঋণপত্র) খোলা যাচ্ছে না।

ছন্দ পতনে রয়েছে প্রবাসী আয়ও। জুলাই থেকে টানা কমতে কমতে সেপ্টেম্বরে নেমেছে ১৩৪ কোটি ৩৭ লাখ ডলারে। যা ২০২০ সালের এপ্রিলের পর সর্বনিম্ন।

 

তবে কিছু বিষয়ে সাফল্য আছে বলে উল্লেখ করে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র মেজবাউল হক বলেন, 

রিজার্ভের পরিমাণ আমরা কাঙ্ক্ষিত মাত্রায় রাখতে পারিনি। তাছাড়া ট্যাক্স রেভিনিউয়ের নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রাও অর্জিত হয়নি। আমাদের বেশ কিছু অর্জন রয়েছে আবার অন্যদিকে আমাদের দুই একটা জায়গায় ব্যর্থতাও রয়েছে।

এ অবস্থায় হুন্ডি ঠেকাতে বাংলাদেশ ব্যাংকের বাজার উপযোগী ব্যবস্থা নেয়ার তাগিদ দিয়েছেন অর্থনীতিবিদ ড. মাহফুজ কবীর। তিনি বলেন, ‘আমরা যেহেতু আইএমএফের কাছে একটি প্রতিশ্রুতি দিয়েছি যে আমরা একটি একক ডলার রেটের দিকে যাবো। সুতরাং, আমাদের সেই রেটের দিকে এগোতে হবে। অবশ্যই, সেটি মার্কেট রেটের কাছাকাছি হতে হবে। এতে বৈধ চ্যানেলে রেমিট্যান্স বাড়বে। তবে আমাদের একই সঙ্গে রফতানি আরও বাড়াতে হবে। এই দুই খাতের প্রবাহ বাড়লেই ধীরে ধীরে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বাড়বে।’

 

আইএমএফ'র শর্তানুযায়ী ডিসেম্বরে দেশের প্রকৃত রিজার্ভ থাকতে হবে ২ হাজার ৬৮০ কোটি ডলার। 

সর্বশেষ
জনপ্রিয়