প্রতারকের খপ্পরে পড়ার অতীত, হৃদয় জেতার বর্তমান
প্রবাস নিউজ ডেস্কঃ
বাবার অগোচরেই হয়েছিল সবকিছু। ক্রিকেটার হওয়ার স্বপ্ন পূরণে ছেলে যে কোনো মূল্যে নিজের শহর বগুড়া ছাড়তে চায়। একসময় চলে আসে ঢাকায়ও। রাজধানীর দক্ষিণ বনশ্রীতে একটি ক্রিকেট একাডেমীর সন্ধানও পেয়ে যায়। কিন্তু সেখানে ভর্তি হতে যে টাকা লাগবে অনেক। অভাবের সংসারে হুট করে অত টাকার সংস্থান করাও মুশকিল। তবু ঠিক একটি ব্যবস্থা হয়ে যায়। মা তাহমিনা আক্তার আছেন না! ক্রিকেট খেলাকে বাবা ভালো চোখে না দেখলেও ছেলের ইচ্ছে পূরণে তাঁর সায় সবসময়ই ছিল। তাই একাডেমিতে ভর্তি হওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় টাকার বন্দোবস্তুও করে ফেলেন।
কিভাবে? ছেলের বাবাকে না জানিয়েই নিজেদের একটি জমি বন্ধক রেখে পাওয়া টাকা তুলে দেন তাওহিদ হৃদয়ের হাতে। টাকা হাতে পেতে দেরি তো সেই একাডেমিতে ভর্তি হতে একটুও নয়। শুরু হয়ে যায় তাঁর জোর ক্রিকেট অনুশীলন। কিন্তু ক্রিকেটার হওয়ার পথে সেই যাত্রা থমকে যেতেও সময় লাগে না বেশি। একদিন গিয়ে দেখেন সেই একাডেমিটাই আর নেই। উধাও মানে উধাও। বুঝতে পারেন যে প্রতারকের খপ্পরেই পড়েছেন তিনি। জমি বন্ধক রেখে মায়ের জোগান দেওয়া টাকা জলে তো যায়ই, একসময় বিষয়টি জেনে যান তাঁর বাবাও। ব্যস, আর যায় কোথায়! হৃদয়ের মা-কে তা নিয়ে নিত্য কথা শোনাতেই থাকেন তিনি। তবে এই বিড়ম্বনা থেকে তাহমিনাকে মুক্তি দিতেও সময় নেননি হৃদয়।
একে একে ওপরে ওঠার সিঁড়ি ভেঙেছেন। বয়সভিত্তিক পর্যায় থেকে পারফরম করেই এগিয়ে গেছেন। ২০২০ সালে বাংলাদেশের যুব বিশ্বকাপজয়ী দলের এই অপরিহার্য সদস্য সর্বশেষ বিপিএলে দুর্দান্ত পারফরম করে আন্তর্জাতিক মঞ্চে পা রাখার পথও খোলেন। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি সিরিজের দলে তাঁর সুযোগ পাওয়া প্রত্যাশিতই ছিল, এর আগে ওয়ানডে স্কোয়াডেও জায়গা হয়ে যায়। খেলার সুযোগ পেতে অবশ্য এই আয়ারল্যান্ড সিরিজ পর্যন্ত অপেক্ষায় থাকতে হয়। সিলেট ইন্টারন্যাশনাল ক্রিকেট স্টেডিয়ামে ৮৫ বলে ৯২ রানের ইনিংস খেলে মানুষের হৃদয় জিতে নিজের বর্তমান রাঙান তাওহিদ হৃদয়। ম্যাচ সেরার পুরস্কার নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে এলে উঠে আসে তাঁর প্রতারকের খপ্পরে পড়ার অতীতও।
হৃদয় জানান, ভুয়া সেই ক্রিকেট একাডেমির কারণে ক্রিকেট খেলাই নাকি ছেড়ে দিতে চেয়েছিলেন, ‘অনেক ক্ষতি করেই ওই একাডেমিতে গিয়েছিলাম। একসময় তো ক্রিকেট খেলারই কোনো ইচ্ছে ছিল না। পরিবার থেকেও সেভাবে কোনো সমর্থন ছিল না। আমি যখন মায়ের সঙ্গে জেদ ধরতাম, যতটুকু পারতেন, চেষ্টা করতেন আর কী! এরপর তো খেলাই ছেড়ে দিতে চেয়েছিলাম। যখন আমি অনূর্ধ্ব-১৬ ক্রিকেট খেলি, সেখান থেকে সুজন স্যার (খালেদ মাহমুদ) আমাকে নিয়ে আসেন। উনিই আসলে আমাকে সুযোগ করে দেন।
- লস অ্যাঞ্জেলসের কাছে হেরে গেলো মেসির ইন্টার মিয়ামি
- ৮১ হাজার সমর্থকের সামনে মঙ্গলবার বার্নাব্যু অভিষেক এমবাপের
- নতুন কোচিং স্টাফ খুঁজবে বিসিবি
- প্রিলিমিনারি হিটেই বাদ ইমরানুর
- কিউইদের বিপক্ষে সিরিজ দিয়ে বছর শেষ করবে বাংলাদেশ
- ভুল বোঝাবুঝি! ফিফটির পরই ফিরলেন শান্ত
- বাংলাদেশের বিপক্ষে বিপিএলের অভিজ্ঞতা কাজে লাগাবেন ক্যাম্ফার
- ডেথ ওভারে বাংলাদেশের ‘নায়ক’ হাসান
- ২০২৩ ক্রিকেট বিশ্বকাপে ভারতে দল পাঠাবে পাকিস্তান
- ভুটানের নারী লিগে বাংলাদেশের আরও চার ফুটবলার








