মালয়েশিয়ায় আন্তর্জাতিক হালাল পণ্য মেলায় পসরা সাজিয়েছে বাংলাদে
প্রবাস নিউজ ডেস্কঃ
আগের বছরগুলোর ধারাবাহিকতায় মালয়েশিয়ায় এ বছরও আয়োজন করা হয়েছে আন্তর্জাতিক হালাল পণ্য মেলা। মেলায় বিশ্বের অন্যান্য দেশের পাশাপাশি অংশগ্রহণ করেছে বাংলাদেশও। সাজিয়ে বসেছে নানা পণ্যের পসরা।
আন্তর্জাতিক হালাল পণ্য মেলায় বাংলাদেশ প্যাভিলিয়ন পরিদর্শন করেন মালয়েশিয়ায় নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার মো: গোলাম সরোয়ার। গত দুই দশক ধরে ইন্টারন্যাশনাল হালাল শোকেস নামে হালাল পণ্যের মেলার আয়োজন করে আসছে মালয়েশিয়া। তারই ধারাবাহিকতায় এবার বসেছে ১৯তম আসর।
এর আয়োজন ও সার্বিক ব্যবস্থাপনায় রয়েছে মালয়েশিয়ার বিনিয়োগ, বাণিজ্য ও শিল্প মন্ত্রণালয় ও মালয়েশিয়া এক্সটারনাল ট্রেড ডেভেলপমেন্ট কর্পোরেশন (এমএটিআরডিই)।
এতে সহযোগী সংস্থা হিসেবে কাজ করছে মালয়েশিয়ার হালাল ডেভেলপমেন্ট কর্পোরেশন বারহাদ (এইচডিসি) ও মালয়েশিয়ার ইসলামিক ডেভেলপমেন্ট ডিপার্টমেন্ট (জাকিম)।
মঙ্গলবার (১২সেপ্টেম্বর) ইন্টারন্যাশনাল হালাল শোকেস (মিহাস২৩) ও গ্লোবাল হালাল সামিট (জিএইচএএস) উদ্বোধন করেন মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম।
খাদ্য ও পানীয়, মডেস্ট ফ্যাশন, ই-কর্মাস, ইসলামিক ফিন্যান্স ও ফিনটেকসহ মোট ১৩টি ক্লাস্টারে বাংলাদেশ ও পাকিস্তানসহ বিশ্বের ৪০টি দেশের ১ হাজার ৪০টি প্রতিষ্ঠান মেলায় অংশ নিয়েছে। সবমিলিয়ে পণ্যের পসরা সাজিয়ে বসেছে মোট ১ হাজার ৮০০টি বুথ।
রাজধানী কুয়ালালামপুরের ইন্টারন্যাশনাল ট্রেড অ্যান্ড এক্সিবিশন সেন্টারে বিশাল এই আয়োজন চলবে ১২ থেকে ১৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত। এবারের মেলায় বাংলাদেশের ব্যাপক উপস্থিতি দেখা যাচ্ছে। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, রফতানি উন্নয়ন ব্যুরোর সহযোগিতায় এবং কুয়ালালামপুরস্থ বাংলাদেশ হাইকমিশনের সার্বিক তত্ত্বাবধানে যা সম্ভব হয়েছে।
মেলায় বাংলাদেশ প্যাভিলিয়ন নামে পৃথক একটি প্যাভিলিয়ন রয়েছে। সেখানে ৯টি বুথে মোট ১৬টি বাংলাদেশি প্রতিষ্ঠান অংশ নিয়েছে। মালয়েশিয়ায় সাম্প্রতিক সময়ে আয়েজিত মেলাসমূহের মধ্যে এবারই বাংলাদেশ বড় পরিসরে অংশগ্রহণ করেছে।
মেলার উদ্বোধনের পরদিন অর্থাৎ বুধবার (১৩ সেপ্টেম্বর) মালয়েশিয়ায় নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার মো: গোলাম সরোয়ার বাংলাদেশ প্যাভিলিয়ন পরিদর্শন করেন। তিনি বাংলাদেশি ব্যবসায়ীদের সাথে কথা বলে মালয়েশিয়ায় তাদের পণ্যের বাজার সম্প্রসারণে বিভিন্ন পরামর্শ প্রদান করেন।
এ সময় হাইকমিশনার উপস্থিত সাংবাদিকদের সঙ্গেও কথা বলেন। তিনি জানান, হালাল পণ্যের বাণিজ্য একটি ক্রমবর্ধমান খাত। বাংলাদেশ বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ হলেও হালাল পণ্য বাণিজ্যে অনেক পিছিয়ে রয়েছে।
বাংলাদেশে হালাল পণ্যের উন্নয়নে পৃথক একটি প্রতিষ্ঠান গঠনের প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন হাইকমিশনার। বলেন,
বিশ্বে বর্তমানে হালাল পণ্য বাণিজ্যের পরিমাণ ২ দশমিক ৩ ট্রিলিয়ন ডলার। ২০৩০ সালের মধ্যে যা বেড়ে দাঁড়াবে ৩ দশমিক ৬ ট্রিলিয়ন ডলারে।বিশাল এই বাজারে বাংলাদেশের প্রবেশের ব্যাপারে জোর দিয়ে তিনি বলেন, বাংলাদেশ যদি এই বাজারের ১০ শতাংশও ধরতে পারে, তাহলেও অন্তত ৩৬০ বিলিয়ন ডলারের বাণিজ্যের সুযোগ সৃষ্টি হবে। আর ১ শতাংশ ধরলেও ৩৬ বিলিয়ন ডলার বাণিজ্যের সুযোগ সৃষ্টি হবে। সেই লক্ষ্যে আমাদের এখনই কাজ শুরু করতে হবে।
এর আগে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম ও উপ-প্রধানমন্ত্রী ড. আহমেদ জাহিদ হামিদি বাংলাদেশ প্যাভিলিয়ন পরিদর্শন করেন এবং বাংলাদেশের প্রদর্শিত পণ্যসমূহকে সম্ভাবনাময় হিসেবে উল্লেখ করেন।
এ সময় তাদের সঙ্গে মালয়েশিয়ার বিনিয়োগ, বাণিজ্য, শিল্প মন্ত্রী ও প্রধানমন্ত্রীর দফতরের ধর্ম বিষয়ক উপদেষ্টাসহ বিভিন্ন দেশের কূটনৈতিক, সরকারি কর্মকর্তা, ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
এবারের মেলায় বাংলাদেশ থেকে বোম্বে সুইটস অ্যান্ড কোং লিমিটেড, এগ্রোভার্স লিমিটেড, তাহমিনাস, পিপলস লেদার ইন্ডাস্ট্রিজ, কেএমআর ক্রাফট, কারুপণ্য, বন্ধন নূরস, অ্যালবাট্রস ফ্যাশন, পশরা লেদার এন্ড জুট, জুটএক্স, বিদোরা ব্যাগ এবং হস্তশিল্প, টেকসল্যুশন, প্রিঙ্ক, ত্রিনা’স ক্লোসেট, ডাইনাস গ্ল্যামার ও কল্পতরু প্রভৃতি প্রতিষ্ঠান অংশ নিয়েছে।
বাংলাদেশ প্যাভিলিয়নের পণ্যের মধ্যে রয়েছে খাদ্য, পোশাক শিল্প, পাট ও পাটজাত পণ্য, চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, আইটি ও হস্তশিল্প। মেলায় হালাল অর্থনীতির জন্য স্থিতিশীল প্রবৃদ্ধির নেতৃত্ব দেয়ার জন্য স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক ব্যবসায়ী সম্প্রদায়কে উদ্ভাবন ও টেকসই উদ্যোগের ওপর বিশেষ জোর দেয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বিশ্বব্যাপি হালাল পণ্যের চাহিদা বৃদ্ধি পাওয়ায় হালাল বাণিজ্যের পরিমাণও ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। হালাল বাণিজ্যে মালয়েশিয়ার অংশগ্রহণ উল্লেখযোগ্য। এ বিষয়ে মালয়েশিয়ার সাথে কাজ করার জন্য বাংলাদেশ প্রচেষ্টা চালিয়ে আসছে।
এই মেলায় অংশগ্রহণের মাধ্যমে বাংলাদেশে হালাল পণ্য খাতের উন্নয়ন তথা মালয়েশিয়াসহ আসিয়ান অঞ্চলে বাংলাদেশি পণ্যের বাজার বৃদ্ধি পাবে বলে আশা করা যাচ্ছে।
- সিআইপি হলেন মালয়েশিয়া প্রবাসী ব্যবসায়ী অহিদুর রহমান
- বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করতে
‘কানাডা-বাংলাদেশ পার্লামেন্টারি ফ্রেন্ডশিপ গ্রুপ’ গঠন - যুক্তরাষ্ট্রে হজরত ঈসার (আ.) জীবনী নিয়ে প্রতিযোগিতার আয়োজন
- নির্বাচন থেকে সরে দাড়ালেন বাইডেন
- নিউইয়র্কে সহকারী ডিসট্রিক্ট অ্যাটর্নি হলেন বাংলাদেশি চৈতি
- যুক্তরাজ্যের নতুন সরকারের মন্ত্রী হলেন টিউলিপ
- বাংলাদেশের অর্থনীতিতে প্রবাসী আয়ের গুরুত্ব
- মালদ্বীপে প্রবাসী বাংলাদেশিদের বৈধ হওয়ার সুবর্ণ সুযোগ!
- যুক্তরাজ্যে নো ভিসা ফি বৃদ্ধির প্রতিবাদে হাইকমিশনের বিবৃতি
- সিলেটে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের ৫৫ লাখ টাকা দিল স্পেন প্রবাসীরা








