বাংলাদেশিদের ভিসা কমিয়ে ভারতের হাসপাতালে হাহাকার!
প্রবাস নিউজ ডেস্কঃ
ভারতে চিকিৎসা নিতে যাওয়া বিদেশি রোগীদের সংখ্যা প্রায় অর্ধেকে নেমে গেছে। বাংলাদেশি রোগীদের ভিসা দেওয়ার পরিমাণ কমিয়ে দেওয়ার ফলে এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে, যা ভারতের স্বাস্থ্য খাতে বড় ধরনের সংকট সৃষ্টি করেছে।
শনিবার (০৪ জানুয়ারি) কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরার এক প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা যায়।
প্রতিবেদনে বলা হয়, ভারতের বিভিন্ন হাসপাতালের নিয়মিত রোগীদের মধ্যে প্রায় ২০ লাখ বিদেশি রোগী থাকেন, যার মধ্যে ৬০ শতাংশই বাংলাদেশি। তবে গত বছরের আগস্ট মাসের পর থেকে বাংলাদেশি রোগীর সংখ্যা প্রায় ৮০ শতাংশ কমে গেছে। ভিসা কমানোয় বিদেশি রোগীদের সংখ্যা প্রায় অর্ধেকে নেমে গেছে।
এদিকে ভারতে চিকিৎসা নিতে যাওয়া বিদেশি রোগীরা শুধু হাসপাতালগুলোতেই নয়, দেশটির অর্থনীতিকেও বড় রকমের সুবিধা এনে দেন। ২০২৩ সালে ভারতীয় ‘মেডিকেল ট্যুরিজম’ খাত থেকে ৯০০ কোটি মার্কিন ডলার, যা প্রায় ৭৭ হাজার ১৮৯ কোটি রুপি, আয় হয়েছে। এই আয়ে বাংলাদেশি রোগীদের বড় অবদান ছিল, তবে বর্তমানে তাদের সংখ্যা কমে যাওয়ায় ভারতের অর্থনীতি ও স্বাস্থ্য খাতে বিরূপ প্রভাব পড়েছে।
বাংলাদেশে ভারতীয় ভিসা কেন্দ্রের এক কর্মকর্তার বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পতনের আগে বাংলাদেশে ভারতের পাঁচটি ভিসা কেন্দ্রে প্রতিদিন প্রায় ৭,০০০ অনলাইন ভিসা স্লট দেওয়া হতো। তবে ৫ আগস্টের পর বর্তমানে এই সংখ্যা মাত্র ৫০০-তে নেমে এসেছে।
এর ফলে, চিকিৎসার জন্য ভারতে যাওয়া বাংলাদেশি রোগীদের সংখ্যা কমে গেছে এবং কলকাতার হাসপাতালগুলো সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কলকাতার মাল্টি-স্পেশালিটি হাসপাতাল পিয়ারলেসে আগে দিনে ১৫০ জন বাংলাদেশি রোগী চিকিৎসা নিতেন, এখন তা কমে ৩০ জনের নিচে নেমে গেছে।
ভারতের বিভিন্ন বড় হাসপাতালও এই ভিসা প্রতিবন্ধকতার কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। প্রতিবেদনে ভারতের স্বাস্থ্যসেবা অ্যাসোসিয়েশনের আলেকজান্ডার থমাস জানান, বেঙ্গালুরুর নারায়ণ হেলথ, চেন্নাইয়ের অ্যাপোলো হাসপাতাল এবং ভেলোরের ক্রিশ্চিয়ান মেডিকেল কলেজ (সিএমসি) এর মধ্যে রয়েছে। এই হাসপাতালগুলোতে বাংলাদেশি রোগীর সংখ্যা কমে যাওয়ায় স্বাস্থ্যসেবায় বড় ধরনের প্রভাব পড়ছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যদি এই ভিসা সংকট অব্যাহত থাকে, তাহলে ভারতীয় স্বাস্থ্য খাতে আরো বড় ধরনের সংকট দেখা দিতে পারে। বাংলাদেশি রোগীদের সংখ্যা কমে যাওয়ার পাশাপাশি, চিকিৎসা খাতে বিনিয়োগও কমতে পারে, যা ভারতের অর্থনীতি ও স্বাস্থ্য খাতের জন্য এক বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে উপস্থিত হবে।
ভারতীয় হাসপাতালগুলোতে বাংলাদেশি রোগীর সংখ্যা কমে যাওয়ার এই পরিস্থিতি শিগগিরই বদলানোর সম্ভাবনা নেই বলে ধারণা করা হচ্ছে, যা দেশটির চিকিৎসা খাতে বড় ধরনের অস্থিরতা সৃষ্টি করবে।
- সিআইপি হলেন মালয়েশিয়া প্রবাসী ব্যবসায়ী অহিদুর রহমান
- বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করতে
‘কানাডা-বাংলাদেশ পার্লামেন্টারি ফ্রেন্ডশিপ গ্রুপ’ গঠন - যুক্তরাষ্ট্রে হজরত ঈসার (আ.) জীবনী নিয়ে প্রতিযোগিতার আয়োজন
- নির্বাচন থেকে সরে দাড়ালেন বাইডেন
- নিউইয়র্কে সহকারী ডিসট্রিক্ট অ্যাটর্নি হলেন বাংলাদেশি চৈতি
- যুক্তরাজ্যের নতুন সরকারের মন্ত্রী হলেন টিউলিপ
- বাংলাদেশের অর্থনীতিতে প্রবাসী আয়ের গুরুত্ব
- মালদ্বীপে প্রবাসী বাংলাদেশিদের বৈধ হওয়ার সুবর্ণ সুযোগ!
- যুক্তরাজ্যে নো ভিসা ফি বৃদ্ধির প্রতিবাদে হাইকমিশনের বিবৃতি
- সিলেটে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের ৫৫ লাখ টাকা দিল স্পেন প্রবাসীরা








