বৈশ্বিক মেরুকরণের প্রভাব জ্বালানি তেলের বাজারে
প্রবাস নিউজ ডেস্কঃ
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সৌদি আরবের মিত্রতা দীর্ঘ কয়েক দশকের। কিন্তু সাংবাদিক জামাল খাসোগি হত্যা ঘিরে সম্পর্কের যে চিড় ধরেছিল ইউক্রেন যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে বৈশ্বিক নয়া মেরুকরণে তা আরো স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। যার সর্বশেষ প্রভাব দেখা যায় জ্বালানি তেলের উৎপাদন কমানোর সিদ্ধান্তে।
যুক্তরাষ্ট্রের চাওয়াকে অগ্রাহ্য করেই সম্প্রতি দৈনিক ১১ লাখ ৬০ হাজার ব্যারেল জ্বালানি তেল উৎপাদন কমানোর ঘোষণা দিয়েছে সৌদি নেতৃত্বাধীন ওপেক প্লাস দেশগুলো। এর আগে রাশিয়া একাই পাঁচ লাখ ব্যারেল উৎপাদন কমানোর ঘোষণা দেয়। ফলে দৈনিক ১৬ লাখ ব্যারেল উৎপাদন কমানোর ঘোষণায় এর বড় ধরনের প্রভাব পড়ে তেলের বাজারে। এক দিনেই জ্বালানি তেলের দাম ৫ শতাংশের বেশি বেড়ে যায়।
বাজার সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান ট্রেডিং ইকোনমিকস জানায়, গত এক সপ্তাহে বিশ্ববাজারে যুক্তরাষ্ট্রের অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম ৮.৫১ শতাংশ বেড়ে প্রতি ব্যারেল হয় ৮০.৭০ ডলার। আর ব্রেন্ট অপরিশোধিত তেলের দাম ৮.৩০ শতাংশ বেড়ে প্রতি ব্যারেল হয় ৮৫.১২ ডলার। গত বৃহস্পতিবারও তেলের বিশ্ববাজার ছিল ঊর্ধ্বমুখী।
বিবিসির এক বিশ্লেষক বলছেন, বৈশ্বিক জ্বালানি তেল উৎপাদনের প্রায় ৩০ শতাংশ নিয়ন্ত্রণ করে অর্গানাইজেশন অব দ্য পেট্রোলিয়াম এক্সপোর্টিং কান্ট্রিজ (ওপেক)। যার সবচেয়ে বড় অংশগ্রহণকারী সৌদি আরব দৈনিক এক কোটি ব্যারেলের বেশি উৎপাদন করে। আর রাশিয়াসহ ওপেক প্লাস দেশগুলো বিশ্বের তেলের ৪০ শতাংশ উৎপাদন করে। যার মধ্যে দৈনিক এক কোটি ব্যারেলের বেশি উৎপাদন করে রাশিয়া। ফলে সৌদি আরব ও রাশিয়ার যেকোনো সিদ্ধান্ত তেলের বৈশ্বিক বাজারকে প্রভাবিত করে।
সিএনএনের এক বিশ্লেষণে বলা হয়, ওপেক ও তাদের মিত্র দেশগুলোর আকস্মিক তেলের উৎপাদন কমানোর সিদ্ধান্তে এই বাজার ক্রমে অস্থির হয়ে উঠতে পারে। তেলের দাম আবারও ১০০ ডলারে উঠতে পারে। এতে আমদানিকারক দেশগুলো ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
তেলের মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে প্রাইভেট ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংক র্যামন্ড জেমসের এমডি পাভেল মলচানভ বলেন, ‘তেল আমদানিকারক সব দেশের ওপরই এটি এক ধরনের কর।’ তিনি বলেন, ‘তেলের দাম ১০০ ডলার হলে এর দুর্ভোগ যুক্তরাষ্ট্র বইবে না বরং জাপান, ভারত ও জার্মানির মতো আমদানিকারক দেশগুলোকেই কষ্টের ভাগ নিতে হবে।’
কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের অনিচ্ছা সত্ত্বেও সৌদি নেতৃত্বাধীন ওপেক দেশগুলো কেন আকস্মিক তেল উৎপাদন কমানোর ঘোষণা দিল? ওপেকের এই সিদ্ধান্ত বিপদ ডেকে আনবে—যুক্তরাষ্ট্র এমন হুঁশিয়ারিও দিয়ে রেখেছে। ফিন্যানশিয়াল টাইমসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, জো বাইডেনের প্রশাসন ও রিয়াদের সঙ্গে সম্পর্ক এখন ভালো যাচ্ছে না। এমন একসময় এসে স্বাধীন অর্থনীতির ভিত গড়ে তোলার কৌশল হাতে নিয়েছে সৌদি। আরবিসি ক্যাপিটাল মার্কেটসের পণ্য কৌশল প্রধান হেলিমা ক্রফট বলেছেন, ‘আসলে যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নির্ভরতা কমানোর অর্থনৈতিক কৌশল নিতে চলেছে সৌদি।’
অন্যদিকে সাম্প্রতিক সময়ে চীনের সঙ্গেও ঘনিষ্ঠতা বাড়িয়েছে সৌদি। সাংহাই কো-অপারেশন অর্গানাইজেশনে যুক্ত হতে চলেছে দেশটি। যেখানে আছে রাশিয়াও। চীনের মধ্যস্থতায় চিরবৈরী ইরানের সঙ্গে আবারও সম্পর্ক পুনঃস্থাপনের পথে হেঁটেছে মোহাম্মদ বিন সালমানের দেশ। অন্যদিকে চীনা কম্পানি রংশেং পেট্রো কেমিক্যালের ১০ শতাংশ শেয়ার কেনার জন্য ৩৬০ কোটি ডলারের একটি চুক্তিও করেছে রিয়াদ। এর আওতায় প্রতিদিন চার লাখ ৮০ হাজার অপরিশোধিত তেল সরবরাহ করবে সৌদি।
যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে গিয়ে বিশ্ব অংশীদারি বাড়ানোর পরিকল্পনা হিসেবে সৌদি এসব কার্যক্রম হাতে নিয়েছে। এর ফলে মধ্যপ্রাচ্যের সঙ্গে তাৎপর্যপূর্ণভাবে মার্কিন সম্পর্কের পটবদল হতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চীন ও রাশিয়ার দ্বন্দ্বের মেরুকরণেই মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো তাদের বিশ্ব অংশীদারিতে এমন বৈচিত্র্য আনছে বলেই মনে করছেন আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষকরা।
সৌদি লেখক আলী শিহাবি বলেছেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একমুখী সম্পর্কের দিন শেষ। এখন আমরা আরো উন্মুক্ত সম্পর্কের পথে হাঁটছি। যুক্তরাষ্ট্রের মতো চীন, ভারত, ফ্রান্সসহ অন্যদের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক শক্তিশালী।’ এ থেকে অনুমান করা যায় রাশিয়া-চীন যে বৈশ্বিক মেরুকরণের নেতৃত্ব দিচ্ছে সৌদি আরবসহ আরব দেশগুলো সেদিকেই হাঁটছে। এতে আগামী দিনে তেলের বাজার নিয়ন্ত্রণে ওপেক প্লাস দেশগুলোর সিদ্ধান্তে যুক্তরাষ্ট্র নয় সৌদি-রাশিয়ার প্রভাবই বেশি থাকবে। বিশেষ করে এতে লাভবান হবে পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞায় থাকা রাশিয়া। দেশটির তেলের দাম এরই মধ্যে প্রতি ব্যারেল ৬০ ডলার নির্ধারণ করে দিয়েছে পশ্চিমা দেশগুলো। কিন্তু বিশ্ববাজার অস্থির হলে রাশিয়ার তেলের দাম আরো বাড়বে।
গত বছরের ২৪ ফেব্রুয়ারি রাশিয়া ইউক্রেনে হামলা করলে জ্বালানি তেলের বাজার অস্থির হয়ে ওঠে। তখন সরবরাহ বিঘ্নতার আশঙ্কায় তেলের দাম বেড়ে ২০২২ সালের মার্চ মাসে প্রতি ব্যারেলের দাম ১৩০ ডলারে উঠে যায়। পরে যুক্তরাষ্ট্রসহ মিত্র দেশগুলো বাজারে বিপুল মজুদ ছাড়তে শুরু করলে দাম কমে আসে।
- সিআইপি হলেন মালয়েশিয়া প্রবাসী ব্যবসায়ী অহিদুর রহমান
- বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করতে
‘কানাডা-বাংলাদেশ পার্লামেন্টারি ফ্রেন্ডশিপ গ্রুপ’ গঠন - যুক্তরাষ্ট্রে হজরত ঈসার (আ.) জীবনী নিয়ে প্রতিযোগিতার আয়োজন
- নির্বাচন থেকে সরে দাড়ালেন বাইডেন
- নিউইয়র্কে সহকারী ডিসট্রিক্ট অ্যাটর্নি হলেন বাংলাদেশি চৈতি
- যুক্তরাজ্যের নতুন সরকারের মন্ত্রী হলেন টিউলিপ
- বাংলাদেশের অর্থনীতিতে প্রবাসী আয়ের গুরুত্ব
- মালদ্বীপে প্রবাসী বাংলাদেশিদের বৈধ হওয়ার সুবর্ণ সুযোগ!
- যুক্তরাজ্যে নো ভিসা ফি বৃদ্ধির প্রতিবাদে হাইকমিশনের বিবৃতি
- সিলেটে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের ৫৫ লাখ টাকা দিল স্পেন প্রবাসীরা








