ঢাকা, ২০২৬-০৭-২৬ | ১০ শ্রাবণ,  ১৪৩৩

জাপানে বয়স্ক মানুষের সংখ্যা বাড়ছে, অর্থনীতিতেও আসছে পরিবর্তন

প্রবাস নিউজ ডেস্কঃ

প্রকাশিত: ০০:২৫, ৭ জুলাই ২০২৪  

ক্রমবর্ধমান বয়স্ক জনসংখ্যার জন্য সংকটের মুখে জাপানের অর্থনীতি। দেশটিতে একদিকে যেমন বয়স্ক জনসংখ্যা বাড়ছে, তেমনি সন্তান নিতে অনাগ্রহী হয়ে উঠছে অধিকাংশ দম্পতি।

জাপানের অর্থনীতির জন্য অশনী সংকেত হয়ে উঠতে পারে তাদের ক্রমবর্ধমান বয়স্ক মানুষের সংখ্যা। 

শুক্রবার (৫ জুলাই) সংবাদমাধ্যম সিএনএনের এক প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা যায়।

বিশ্বের অন্যতম বিশাল অর্থনীতির দেশ জাপানে ক্রমে বয়স্ক মানুষের সংখ্যা বাড়েছে, সেইসঙ্গে কমছে জন্মহার। গত বছরের জাতিসংঘের এক প্রতিবেদন অনুসারে, ২০৫০ সালের মধ্যে পৃথিবীতে বয়স্ক মানুষের (বয়স ৬৫ বা তার উপরে) সংখ্যা বর্তমানের তুলনায় দ্বিগুণ হয়ে ১৬০ কোটিতে পরিণত হবে। এটি জাপানের অর্থনীতির জন্য অশনী সংকেত হয়ে উঠতে পারে।
জুন মাসের শুরুর দিকে জানানো হয়, জাপানে ধারাবাহিকভাবে ৮ বছর জন্মহার কমেছে। গত ১২০ বছরের ইতিহাসে ২০২৩ সালে রেকর্ড পরিমাণ নিম্ন জন্মহার দেখেছে দেশটি। জন্ম হয় মাত্র ৭ লাখ ২৭ হাজার ২৭৭ শিশুর।

এছাড়া জাপানে ১২ লাখ বৃদ্ধ ব্যবসায়ীর কোনো উত্তরাধিকারী নেই। ২০২৩ সালের জুনে জাপানের প্রধানমন্ত্রী ফুমিও কিশিদা জন্মহার বাড়াতে পরিবারগুলোকে উৎসাহিত করতে কয়েক বিলিয়ন ডলারের প্রকল্প ঘোষণা করেন। মূলত জনসংখ্যাকেন্দ্রিক যে সংকট দেখা দিয়েছে, তা সমাধান করার চেষ্টা চালাচ্ছে দেশটির কর্তৃপক্ষ। জাপানে একদিকে যেমন জনশক্তি কমছে, অন্যদিকে বয়স্কদের নানা চাহিদা বাড়ছে।

বয়স্ক মানুষদের পণ্য এরইমধ্যে বাজার পরিবর্তনে ভূমিকা পালন করছে। জাপানে ‘অ্যাডাল্ট ডায়াপার’-এর চাহিদা বাড়ছে উল্লেখযোগ্য হারে। যদিও শিশুদের ডায়াপারের চাহিদা কমেছে।

বাজার গবেষণার সংস্থা- ইউরোমনিটর ইন্টারন্যাশনালের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালে অ্যাডাল্ট ডায়াপারের বৈশ্বিক বাজারমূল্য ছিল ১ হাজার ২৮০ কোটি ডলার। আশা করা হচ্ছে, ২০২৬ সালের মধ্যে এই বাজার মূল্য বেড়ে ১ হাজার ৫৫০ কোটি ডলার হতে পারে।

তাছাড়া ২০২৩ সালে জাপানের অ্যাডাল্ট ডায়াপারের বাজারমূল্য ছিল ১৭০ কোটি ডলার। ২০২৬ সালের মধ্যে দেশটিতে এই বাজার মূল্য দাঁড়াতে পারে ১৯০ কোটি ডলার, যা পুরো বিশ্বের ১২ শতাংশ।

মার্চে জাপানি কোম্পানি ওজি হোল্ডিংস এই পরিবর্তনের সঙ্গে খাপ খাওয়ানোর জন্য ঘোষণা দেয়। তারা জাপানি বাজারের জন্য শিশুদের ডায়াপার তৈরি বন্ধ রাখবে। সেইসঙ্গে বয়স্কদের জন্য প্রয়োজন- এমন পণ্যে নজর দেয়ার কথা জানায় তারা। তবে কোম্পানিটি বিদেশি বাজারের জন্য শিশু ডায়াপার তৈরি অব্যাহত রাখবে। ২০২৩ সালে জাপানের বাজারে শিশু ডায়াপার বিক্রি কমলেও চীন, ইন্দোনেশিয়া ও মালয়েশিয়ায় তাদের বিক্রি বেড়েছে। তাছাড়া রান্নাঘরের পণ্যসামগ্রী প্রস্তুতকারক জোজিরুশি বয়স্ক নাগরিকদের জন্য অনেক পণ্য নতুন করে বাজারে এনেছে।

এশিয়ায় বয়স্ক জনসংখ্যার ক্ষেত্রে শুধু জাপানেই নয়, বরং দক্ষিণ কোরিয়াতেও রয়েছে এই সংকট। ২০২৩ সালের হিসাব অনুযায়ী, দেশটিতে নারী প্রতি শিশুর সংখ্যা শূন্য দশমিক ৭২। সম্প্রতি এবিষয়ে একটি নতুন মন্ত্রণালয়ও চালু করেছে দক্ষিণ কোরিয়া। জন্মহার কমেছে হংকং, চীন ও তাইওয়ানেও।

জাতিসংঘের প্রতিবেদন বলছে, এশিয়ার ছয়টি দেশ ২০৫০ সালের বয়স্ক নাগরিকদের সংখ্যার দিক থেকে শীর্ষ দশে অবস্থান করবে। এর মধ্যে সবার উপরে থাকবে হংকং। আবার একাবিংশ শতাব্দীর পরে একমাত্র দেশ হিসেবে আফ্রিকাই থাকবে, যেখানে বয়স্ক মানুষের সংখ্যা মোট জনসংখ্যার ১৫ শতাংশের নিচে থাকবে।

প্রবাসের খবর বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
সর্বশেষ
জনপ্রিয়