ঢাকা, ২০২৬-০৭-২৬ | ১০ শ্রাবণ,  ১৪৩৩

যুক্তরাজ্যের নতুন সরকারের পররাষ্ট্রনীতি কেমন হবে?

প্রবাস নিউজ ডেস্কঃ

প্রকাশিত: ০১:৫২, ৬ জুলাই ২০২৪  

দীর্ঘ ১৪ বছর যুক্তরাজ্য শাসন করেছে কনজারভেটিভ পার্টি। এই সময়ের মধ্যে ব্রিটিশরা পাঁচজন প্রধানমন্ত্রী পেয়েছে। তারা তাদের মতো করে অভ্যন্তরীণ সমস্যা মোকাবিলার পাশাপাশি পররাষ্ট্র বিষয়ক সমস্যাগুলো সামলানোরও চেষ্টা করেছেন।

পরিবর্তিত বিশ্ব পরিস্থিতি, রক্তাক্ত মধ্যপ্রাচ্য, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ এবং যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচন ঘিরে নতুন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কেয়ার স্টারমার তার পররাষ্ট্রনীতি কীভাবে সাজান তাই এখন দেখার বিষয়। 

কয়েক বছরের অস্থিতিশীল রাজনৈতিক পরিস্থিতির মধ্যে সাবেক প্রধানমন্ত্রী লিজ ট্রাসের ৪৬ দিনের শাসন শেষে ২০২২ সালের অক্টোবরে কনজারভেটিভ পার্টির নেতা ও সেই সুবাদে প্রধানমন্ত্রী হন ভারতীয় বংশোদ্ভূত রাজনীতিক ঋষি সুনাক। সংবিধান অনুযায়ী, ২০২৫ সালে নির্বাচন হওয়ার কথা থাকলেও তিনি আগাম নির্বাচন দেন। ক্ষমতা আরও পাকাপোক্ত করাই ছিল তার লক্ষ্য।

কিন্তু ব্রিটিশ জনগণ সুনাককে আর সেই সুযোগ দিলো না। বৃহস্পতিবারের (৪ জুলাই) সাধারণ নির্বাচনে কনজারভেটিভ পার্টির বিরুদ্ধে রায় দিয়েছেন ব্রিটিশরা। সেই জায়গায় দেশ শাসনের সুযোগ দিয়েছে বিরোধী লেবার পার্টিকে। বিপর্যয়কর পরাজয়ের পর এরই মধ্যে কনজারভেটিভ পার্টির প্রধান ও প্রধানমন্ত্রী পদ থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন সুনাক।

লেবার নেতা কেয়ার স্টারমারকে প্রধানমন্ত্রী নিয়োগ দিয়েছেন রাজা তৃতীয় চার্লস। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ পাওয়ার পরপরই সরকার গঠনের কাজ শুরু করেছেন স্টারমার। আগের প্রত্যেক প্রধানমন্ত্রীর মতো তিনিও সরকার এবং এর কর্মকাণ্ডে পরিবর্তনের কথা বলছেন। লেবার নেতৃত্বাধীন সরকারে ব্রিটিশ পররাষ্ট্রনীতি কেমন হবে, তা নিয়ে বেশ আলোচনা চলছে।

এএফপি বলছে, কেয়ার স্টারমারের প্রধানমন্ত্রিত্বের প্রথম মাসটি হবে ঝোড়ো আন্তর্জাতিক কূটনীতির মাস। প্রথম এক মাসে মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন ও ইউরোপীয় নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করবেন তিনি। আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে তার প্রথম পদক্ষেপ হবে ন্যাটোর শীর্ষ সম্মেলনে যোগদানের মধ্যদিয়ে

আগামী মঙ্গলবার (৯ জুলাই) ওয়াশিংটনে শুরু হতে যাচ্ছে ন্যাটোর ৭৫তম বার্ষিক শীর্ষ সম্মেলন। চলবে বৃহস্পতিবার (১১ জুলাই) পর্যন্ত। এরপর ১৮ জুলাই ইংল্যান্ডের অক্সফোর্ডের কাছে ব্লেনহেইম প্যালেসে ইউরোপিয়ান পলিটিক্যাল কমিউনিটির বৈঠকের আয়োজন করবেন তিনি। সেখানে উপস্থিত থাকবেন ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ ও জার্মানির ওলাফ শলজ।

লেবার নেতারা ‘প্রগতিশীল বাস্তববাদ’-এর ভিত্তিতে বৈদেশিক নীতি সাজানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। যেমন সম্ভাব্য পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডেভিড ল্যামি বলছেন, 

বিশ্ব এখন আরও অস্থির। যেমনটা আমরা চাই বিশ্ব সেরকম নয়।

ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে ব্রিটেনকে বের করে আনার যে চুক্তি তথা ব্রেক্সিট বাস্তবায়ন করারও প্রতিশ্রুতি দিয়েছে দলটি। সেই সঙ্গে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে একটি নিরাপত্তা চুক্তি করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে লেবার পার্টি।

এছাড়া চীন, ইউক্রেন যুদ্ধ ও ইসরাইল-হামাস সংঘাতের মতো বড় বড় ইস্যুতে ভিন্ন ভিন্ন অ্যাপ্রোচ তথা কর্মপদ্ধতি গ্রহণ করতে পারে স্টারমার প্রশাসন। 

এএফপির প্রতিবেদন মতে, চলতি সপ্তাহে ল্যামি এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, চীনের সঙ্গে সুসম্পর্কের ক্ষেত্রে সমস্ত সরকারি বিভাগ ও দফতরগুলোর একটি ‘পূর্ণ নিরীক্ষা’ করবে সরকার, যাতে চীন নীতির ‘দিক ও গতিপথ নির্ধারণ’ হয়।

চীনের বিষয়ে স্টারমার গত বছর এক বক্তব্যে বলেন, ব্যবসা, বাণিজ্য ও প্রযুক্তির মতো ইস্যুতে যুক্তরাজ্যের চীন থেকে মুক্তি দরকার। তবে জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলার মতো বিষয়গুলোতে এশিয়ার প্রভাবশালী দেশটির সঙ্গে সহযোগিতামূলক কর্মকাণ্ডের গুরুত্ব স্বীকার করেন তিনি।

তবে নিরাপত্তার সঙ্গে যুক্তরাজ্যের বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক স্বার্থের ভারসাম্য বজায় রাখাই হবে চ্যালেঞ্জ। আগামী নভেম্বরে মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের পর ডোনাল্ড ট্রাম্পের সম্ভাব্য প্রত্যাবর্তনের ফলে বিষয়টি জটিল হতে পারে। ট্রাম্প বেইজিংয়ের সঙ্গে আরও কঠোর হওয়ার জন্য মিত্রদের ওপর চাপ বাড়াবেন বলেই মনে করা হচ্ছে।

এর বাইরে ইসরাইল-ফিলিস্তিন সংঘাতে নিজেদের একটি পক্ষে নিতে হবে তাদের। লেবার পার্টি প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, ফিলিস্তিনকে একটি রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ তারা। 

সেই সঙ্গে তখন বলেছিল অবিলম্বে যুদ্ধবিরতিসহ সমস্ত জিম্মি মুক্তি ও গাজায় সাহায্যের পরিমাণ বৃদ্ধি করতে চায় তারা। এই সংঘাতের সমাধানের পক্ষে যুক্তরাজ্য। তবে যুক্তরাজ্য এটি চাইলেও যুক্তরাষ্ট্রের কারণে সেটা করতে পারবে কি না তা নিয়ে শঙ্কা থাকছেই।

এর বাইরে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়েও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে হবে স্টারমারকে। যদিও তিনি সব সময় ইউক্রেনের পক্ষেই কথা বলেছেন নির্বাচনের আগে। তাছাড়া যুক্তরাজ্য ইউক্রেনের কট্টর সমর্থক। 

রাশিয়ার আক্রমণ প্রতিহত করতে সহায়তার জন্য অর্থ, অস্ত্র ও সেনা প্রশিক্ষণ প্রদান করেছিল ঋষি সুনাকের সরকার। নতুন সরকারের দায়িত্ব নিয়ে স্টারমারের ভূমিকা কী হবে সেটাই এখন দেখার বিষয়।

প্রবাসের খবর বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
সর্বশেষ
জনপ্রিয়