ঢাকা, ২০২৬-০৭-২৮ | ১২ শ্রাবণ,  ১৪৩৩

আগরতলার বাংলাদেশ দূতালয়ে ঐতিহাসিক ৭ মার্চ উদ্‌যাপন

প্রবাস নিউজ ডেস্কঃ

প্রকাশিত: ০১:১২, ৮ মার্চ ২০২৪  

নানা অনুষ্ঠানমালার মাধ্যমে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৭ মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণের দিনটি উদযাপন করেছে আগরতলার বাংলাদেশ সহকারী হাইকমিশন।

আগরতলা বাংলাদেশ সহকারী হাই কমিশনে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ ও শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। ছবি: সময় সংবাদ

বৃহস্পতিবার (৭ মার্চ) আগরতলার কুঞ্জবনে সহকারী হাই কমিশন প্রাঙ্গণে বিভিন্ন অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
সকাল সাড়ে ৯টা দূতালয় প্রাঙ্গণে জাতীয় সংগীতের সঙ্গে বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়।
দুপুর সাড়ে ৩টায় জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ ও শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। দুপুর ৩টা ৩৫ মিনিটে জাতির পিতা, তার পরিবারের শাহাদতবরণকারী সদস্য ও মহান মুক্তিযুদ্ধে জীবন উৎসর্গকারী শহীদদের স্মরণে ১ মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।
দুপুর ৩টা ৩৬ মিনিটে জাতির পিতা তার পরিবারের শাহাদতবরণকারী সদস্য ও মহান মুক্তিযুদ্ধে জীবন উৎসর্গকারী শহীদদের আত্মার মাগফিরাত এবং বাংলাদেশের উত্তরোত্তর সমৃদ্ধি কামনা করে বিশেষ দোয়া ও প্রার্থনা করা হয়।
দুপুর ৩টা ৪০ মিনিটে দিবস উপলক্ষে বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি এবং প্রধানমন্ত্রীর বাণী পাঠ করা হয়।  দুপুর ৩টা ৫০ মিনিটে দিবসের তাৎপর্য নিয়ে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন মহান মুক্তিযুদ্ধের মৈত্রী সম্মাননাপ্রাপ্ত ব্যক্তিত্ব স্বপন ভট্টাচার্য, শিক্ষাবিদ ড. দেবব্রত দেবরয়, সাংবাদিক অমিত ভৌমিক প্রমুখ।

জাতির পিতা, তার পরিবারের শাহাদতবরণকারী সদস্য ও মহান মুক্তিযুদ্ধে জীবন উৎসর্গকারী শহীদদের স্মরণে ১ মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। ছবি: সময় সংবাদ
সহকারী হাইকমিশনার আরিফ মোহাম্মাদ তার বক্তব্যে গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন স্বাধীনতার মহান স্থপতি সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানসহ জাতীয় চার নেতা, ৩০ লাখ শহীদ, সম্ভ্রমহারা ২ লাখ মা বোন এবং জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান বীর মুক্তিযোদ্ধাদের, যাদের মহান আত্মত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত হয়েছে স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ।
তিনি উল্লেখ করেন, বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণ পৃথিবীর কালজয়ী ভাষণগুলোর অন্যতম এবং ১৯৭১ সালের এই দিনে তৎকালীন রেসকোর্স ময়দানে বজ্রকণ্ঠে স্বাধীনতার ডাক দিয়ে ছিলেন। মাত্র ১৮ মিনিটের এ মহাকাব্যে ধ্বনিত হয়েছিল বাঙালি জাতির মুক্তির মহামন্ত্র ‘স্বাধীনতা’। বঙ্গবন্ধুর শাণিত ও প্রদীপ্ত উচ্চারণে কেঁপে উঠেছিল পাকিস্তানি স্বৈরশাসকের মসনদ।


আরিফ মোহাম্মাদ আরও উল্লেখ করেন, পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তের ঐতিহাসিক প্রতিনিয়ত ৭ মার্চের ভাষণ নিয়ে গবেষণা করছেন। পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ ভাষণগুলোর ভেতর এক ব্যতিক্রমী ভাষণ হলো বঙ্গবন্ধুর ৭ই মার্চের ভাষণ। যা ছিল সম্পূর্ণ অলিখিত। সেদিন তিনি যখন স্টেজে উঠে বক্তৃতা শুরু করলেন, মনে হলো তিনি যেন বাঙালি জাতির ইতিহাসের শ্রেষ্ঠ মহাকাব্যটি রচনা করছেন। ৭ মার্চের ভাষণ বঙ্গবন্ধুর অমর রচনা, বাঙালির শ্রেষ্ঠ মহাকাব্য, যেটি বাঙালি জাতির সংগ্রাম ও স্বাধীনতার লালিত স্বপ্ন থেকে রচিত। যুগে যুগে সব সমাজের নিপীড়িত, নির্যাতিত এবং স্বাধীনতাপ্রিয় মানুষকে উৎসাহ-উদ্দীপনা আর অনুপ্রেরণা জোগাবে বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণ।
স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশকে একটি সুখী-সমৃদ্ধ ‘সোনার বাংলা’য় পরিণত করাই ছিল বঙ্গবন্ধুর আজীবনের লালিত স্বপ্ন। এ স্বপ্নকে বুকে ধারণ করে বাংলাদেশকে ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত সমৃদ্ধ ও স্মার্ট দেশে পরিণত করতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যে ডাক দিয়েছেন তা বাস্তবায়নে দলমত নির্বিশেষে সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে কাজ করার আহ্বান জানান সহকারী হাই কমিশনার।
আলোচনা অনুষ্ঠান শেষে বিকেল ৪টা৫০ মিনিটে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ৭ই মার্চের ভাষণের ভিডিও চিত্র প্রদর্শন করা হয়। বিকেল ৫টা ১০ মিনিটে আমন্ত্রিত অতিথিদের সম্মানে আপ্যায়নের আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে ত্রিপুরা রাজ্যের স্থানীয় নেতা, সাংবাদিক ও মিডিয়া ব্যক্তিত্ব, সিভিল সোসাইটির গণ্যমান্য ব্যক্তি এবং আগরতলা মিশনে কর্মরত কর্মকর্তা ও কর্মচারী,নানা শ্রেণিপেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন অত্র মিশনের প্রথম সচিব ও দূতালয় প্রধান মো. রেজাউল হক চৌধুরী।

প্রবাসের খবর বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
সর্বশেষ
জনপ্রিয়