ঢাকা, ২০২৬-০৭-৩০ | ১৪ শ্রাবণ,  ১৪৩৩

সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে বাড়ছে রেমিট্যান্স

প্রবাস নিউজ ডেস্কঃ

প্রকাশিত: ০০:৫১, ১৭ জানুয়ারি ২০২৪  

মধ্যপ্রাচ্যের দেশ সংযুক্ত আরব আমিরাতে বর্তমানে ১০ লাখ বাংলাদেশি রয়েছেন। বিদায়ী বছর প্রবাসী আয়ের শীর্ষেও অবস্থান করছে দেশটি। গতবছর আমিরাত থেকে রেমিট্যান্স এসেছে ৩৬৭ কোটি ডলারের বেশি। যার পরিমাণ ২০২১ ও ২০২২ অর্থ বছরকে ছাড়িয়ে গেছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, প্রবাসী বাংলাদেশিদের বৈধ পথে রেমিট্যান্স প্রেরণে উৎসাহিত করতে গতবছর মিশন কর্তৃক আয়োজিত রেমিট্যান্স সম্মাননার উদ্যোগ যথাযথভাবে কাজে লেগেছে। যে কারণে ধারাবাহিকভাবে রেমিট্যান্স প্রবাহ বৃদ্ধি পাচ্ছে।

গত ফেব্রুয়ারি মাসে দুবাই মিশনের দেওয়া রেমিট্যান্স সম্মাননা অর্জন করেন ৫২ জন প্রবাসী ও ৩৯ জন সিআইপি। এতে করে প্রবাসীদের মধ্যে রেমিট্যান্স প্রেরণের প্রতিযোগিতা তৈরি হয়। ফলে দেশটি থেকে ক্রমাগত রেমিট্যান্স বৃদ্ধি পাচ্ছে। এমনকি সদ্য বিদায়ী বছরে আমিরাত থেকে প্রবাসী আয় ছিল শীর্ষে। শুধু তাই নয়, সরকার ঘোষিত বাণিজ্যিক গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির (সিআইপি) সংখ্যাও বেড়েছে দেশটিতে। গত তিনবছরে বৈধ পথে সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স পাঠানোর জন্য সরকার ৯৩ জন আমিরাত প্রবাসীর নাম এই তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করেছে।

পরিসংখ্যানে দেখা যায়, গত তিন মাসে সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে রেমিট্যান্স পাঠানো ধারাবাহিকভাবে বেড়েছে। অক্টোবরে ৩২ কোটি ৯৩ লাখ ডলার রেমিট্যান্স পাঠানো হলেও নভেম্বরে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৮ কোটি ৪ লাখ ডলারে। ডিসেম্বরে তা ছাড়িয়েছে ৪৪ কোটি ডলার। সব মিলিয়ে ২০২৩ সালে দেশটি থেকে বাংলাদেশিদের রেমিট্যান্স পাঠানোর পরিমাণ ছিল ৩ হাজার ৬৭৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। শুধু বৈধ পথে সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স পাঠিয়ে ২০২১ সালে ৩০ জন, ২০২২ সালে ২৩ জন ও ২০২৩ সালে ২৬ জন আমিরাত প্রবাসী নতুন করে বাণিজ্যিক গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির খেতাব পেয়েছেন।

সদ্য সিআইপি হওয়া শারজাহ প্রবাসী মোহাম্মদ ইমরান জানান, কেবল ব্যবসায়ীরাই নন, তাদের দেখাদেখি বৈধ উপায়ে দেশে অর্থ পাঠাতে আগ্রহ বাড়ছে সাধারণকর্মীদের মধ্যে। তুলনামূলক সচেতনতাও বেড়েছে। নিজের সাতটি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত প্রায় দুই শতাধিক শ্রমিককে তিনি বৈধ পথে রেমিট্যান্স প্রেরণে উৎসাহিত করছেন।

দুবাই প্রবাসী সিআইপি জসিম উদ্দীন তালকুদার জানান, ব্যবসায়ীদের পাশাপাশি চাকরিজীবী প্রবাসীদের জন্য সরকারিভাবে এই সম্মাননার ব্যবস্থা রাখলে রেমিট্যান্স প্রবাহ আরও বাড়বে। ২০ হাজার থেকে ৫০ হাজার ডলার পর্যন্ত ক্যাটাগরি তৈরি করে এ ধরনের প্রবাসীদের মূল্যায়ন করা যেতে পারে।

তবে সাধারণ প্রবাসীরা যদি বিমানবন্দরে হয়রানির শিকার না হন এবং দেশে যথাযথ সম্মান পান তাহলে রেমিট্যান্স প্রবাহে আরও গতি আসবে বলে মনে করছেন এই দুই সিআইপি। প্রয়োজনীয় সরকারি সুযোগ-সুবিধা আরও সহজে সাধারণ প্রবাসীকর্মীদের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়ারও দাবি তাদের।

দুবাই বাংলাদেশ কনস্যুলেটের কনসাল জেনারেল বিএম জামাল হোসেন সমকালকে বলেন, ‘দুবাই ও উত্তর আমিরাত প্রবাসীদের জন্য বাংলাদেশ কনস্যুলেট রেমিট্যান্স অ্যাওয়ার্ড চালু করায় প্রবাসীদের মধ্যে প্রতিযোগিতা তৈরি হয়েছে। বৈধ চ্যানেলে রেমিট্যান্স প্রবাহ বৃদ্ধি তারই ইঙ্গিত দিচ্ছে। এবছরও রেমিট্যান্স যোদ্ধাদের জন্য এই সম্মাননার আয়োজন করা হবে। খুব শিগগিরই এই সংক্রান্ত ঘোষণা আসবে।’

প্রবাসের খবর বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
সর্বশেষ
জনপ্রিয়