ঢাকা, ২০২৬-০৭-৩০ | ১৪ শ্রাবণ,  ১৪৩৩

ইতালি-জার্মানি-ফ্রান্সে প্রবাসী দিবস উদযাপন হয়নি কেন?

প্রবাস নিউজ ডেস্কঃ

প্রকাশিত: ০০:৩৪, ৩ জানুয়ারি ২০২৪  

বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে প্রবাসীদের অবদানের স্বীকৃতি দিতে ৩০ ডিসেম্বর সারাদেশে ও বিশ্বজুড়ে প্রথমবারের মতো উদযাপিত হয়েছে ‘জাতীয় প্রবাসী দিবস’। সরকারি নির্দেশনা মোতাবেক যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, গ্রিস, স্পেন, পর্তুগাল, মালয়েশিয়া, ব্রুনাই, দুবাই, দক্ষিণ কোরিয়া, মেক্সিকো, ব্রাজিল, সৌদি আরবসহ বিভিন্ন দেশে দিবসটি উদযাপিত হয়েছে। তবে ইতালি, জার্মানি, ফ্রান্সসহ আরও কয়েকটি দেশে প্রবাসী দিবস উদযাপিত হয়নি। কেন এসব দেশে প্রবাসী দিবস উদযাপন করা হয়নি। সেখানে কী প্রবাসী নেই?

জাতীয় প্রবাসী দিবস এক বছর আগে মন্ত্রিসভায় অনুমোদনের পর পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আবদুল মোমেন সাংবাদিকদের বলেন, ‘প্রবাসীরা দীর্ঘদিন ধরেই আমাদের জন্য কাজ করে চলেছেন। স্বাধীনতাযুদ্ধের সময়ও তারা বলিষ্ঠ ভূমিকা রেখেছেন। এই প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্সে দেশের অর্থনীতির চাকা সচল থাকছে। আমরা চাই তারা এদেশের উন্নয়নের সঙ্গে আরও সম্পৃক্ত হোক। সেজন্য প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের প্রস্তাব অনুযায়ী, আমরা প্রতি বছর ৩০ ডিসেম্বর জাতীয় প্রবাসী দিবস উদযাপন করব।’

এদিকে জাতীয় প্রবাসী দিবস উপলক্ষে বাণী দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও প্রবাসীকল্যাণমন্ত্রী। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে বিদেশে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস ও মিশনগুলোতে দিবসটি উদযাপনের নির্দেশনা দেওয়া হয়। আমেরিকা, কানাডা, যুক্তরাজ্য, সৌদি আরব, মালয়েশিয়াসহ অনেক দেশেই প্রবাসী দিবসের অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতি-প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রীদের বাণী পাঠ করা হয়। দিবসটির গুরুত্ব ও প্রতিবাদ্য বিষয় জানতে পারেন উপস্থিত প্রবাসীরা। কিন্তু যেসব দেশে প্রবাসী দিবস উদযাপন হয়নি, ওইসব দেশের প্রবাসীরা রাষ্ট্রপতি-প্রধানমন্ত্রীর বাণীতে দিবসটি উপলক্ষে প্রবাসীদের প্রতি কী বার্তা দেওয়া হয়েছে, তা জানবে কী করে?

প্রবাসীদের সম্মান জানাতে স্বাধীনতার ৫২ বছর পর জাতীয় প্রবাসী দিবস প্রবর্তন করা হয়েছে। আলাদা করে বছরে একদিন প্রবাসী দিবস উদযাপনের জন্য প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা একটি যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। প্রবাসীদের জন্য আলাদা করে একটি দিন থাকা দরকার। ভারতীয় প্রবাসীদের জন্য আলাদা করে দিন বরাদ্দ রেখেছে ভারত সরকার। তারা ৯ জানুয়ারি এনআরআই দিবস উদযাপন করে। বিশ্বের সকল দূতাবাসেই এনআরআই দিবস উদযাপন করে ভারত।

বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে প্রবাসীদের অবদান অনস্বীকার্য। বাংলাদেশে পাকিস্তানিদের যুদ্ধাপরাধ, গণহত্যার প্রতিবাদে বহির্বিশ্বে জনমত গঠনে প্রবাসীরা গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন। মুক্তিযুদ্ধের পর বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে প্রবাসীরাই সবার আগে বিভিন্ন দেশে সমাবেশ করেছে। বাংলাদেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তন, এরশাদ বিরোধী আন্দোলন, ওয়ান ইলেভেনের পরে নির্বাচিত সরকারের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তরসহ বিভিন্ন জাতীয় দুর্যোগে প্রবাসীরাই সবার আগে দেশের মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে। বাংলাদেশের ইতিহাসে সর্ববৃহৎ উন্নয়ন প্রকল্প পদ্মা সেতু নির্মাণেও প্রবাসীরা রাখে গুরুত্বপূর্ণ অবদান। করোনাকালে সারা বিশ্ব যখন মন্দার কবলে পড়েছিল, তখন প্রবাসীদের রেমিট্যান্সে সচল ছিল দেশের অর্থনীতি।

২০০৮ সালের নির্বাচনে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে গঠিত মহাজোট সরকারের ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণে প্রবাসীরা ভূমিকা রেখেছে। এবারের নির্বাচনে স্মার্ট বাংলাদেশ গড়ার মিশন হাতে নিয়েছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। প্রবাসীদের রেমিট্যান্স প্রবাহ আরও বেশি গতিশীল করতে হলে প্রবাসীদের নাগরিক হিসেবে সুবিধা আরও বেশি বাড়াতে হবে। বিদেশে উচ্চ শিক্ষিত মেধাবী প্রবাসীদের দেশে ফিরিয়ে এনে যার যার দক্ষতা অনুযায়ী বিভিন্ন সেক্টরে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ করতে হবে।

দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স বাস্তবায়নে প্রবাসীরাই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারবেন। স্মার্ট বাংলাদেশ গড়তে প্রবাসীদের সম্পৃক্ত করা প্রয়োজন। দূতাবাসগুলোতে আরও দেশপ্রেমিক জনবল নিয়োগ করা দরকার। যাতে প্রবাসীদের পাসপোর্ট ইস্যুসহ অন্যান্য সেবা দ্রুত দেওয়া হয়, সেজন্য কঠোর নজরদারি করতে হবে।

বিদেশে কোনো প্রবাসী বিপদে পড়লে দূতাবাস যাতে পাশে থাকে, সেই ব্যবস্থা করতে হবে। প্রবাসী দিবস কেবল দিবস উদযাপনের মধ্যেই যেন সীমিত না থাকে। ঢাকা বিমানবন্দরে প্রবাসীদের হয়রানি শূন্যে নিয়ে আসতে হবে। বিমানের ব্যবস্থাপনা ঢেলে সাজাতে হবে। প্রবাসীদের জায়গা জমি কেউ যাতে দখল করতে না পারে, জেলা প্রশাসন শুধু এটুকু করলেই প্রবাসীরা নিশ্চিন্তে প্রবাসে ভালো থাকবেন।

প্রবাসের খবর বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
সর্বশেষ
জনপ্রিয়