ঢাকা, ২০২৬-০৭-৩১ | ১৬ শ্রাবণ,  ১৪৩৩

ভারতীয়রা আদৌ কি বাংলাদেশিদের ‘বয়কট’ করার কথা ভাবছেন?

প্রবাস নিউজ ডেস্কঃ

প্রকাশিত: ০০:০০, ২৮ নভেম্বর ২০২৩  

গত ১৯ নভেম্বর অস্ট্রেলিয়ার কাছে ফাইনালে ভারত হেরে যাওয়ার পর বাংলাদেশের বিভিন্ন ফেসবুক পেজ, ইউটিউব চ্যানেল, এমনকি কিছু গণমাধ্যমেও উঠে এসেছে এক শ্রেণির ক্রিকেট ভক্তদের উল্লাস-উন্মাদনা। আর তাতেই বেজায় চটে যান পশ্চিমবঙ্গের বেশ কয়েকজন ব্লগার, ফেসবুক ‘যোদ্ধা’ এবং কিছু অতি-উৎসাহী নেটিজেন।

এর পর থেকেই দুই দেশের বেশ কয়েকজন কনটেন্ট ক্রিয়েটর রীতিমত এই ইস্যুতে নিজের দেশের পক্ষে অবস্থান নিতে গিয়ে অন্য দেশের প্রতি চরম অনাস্থা, ঘৃণা এবং বিদ্বেষমূলক মন্তব্য করে চলেছেন।

আর এমন ফেসবুক বিপ্লবের আগুনে ঘি ঢালতে শুরু করে কলকাতার কিছু মিডিয়া এবং আন্তর্জাতিক একটি গণমাধ্যমের খবরও। এসব খবরে বলা হয়, দার্জিলিংয়ের এক আবাসিক হোটেলে বাংলাদেশি পর্যটকদের ‘বয়কট’ করা হয়েছে। 

তবে ঘটনার সত্যতা খুঁজতে গিয়ে জানা যায়, দার্জিলিংয়ের আবাসিক ওই হোটেলটিতে প্রচুর সংখ্যক বাংলাদেশি-ভারতীয় পর্যটক থাকতেন। কিন্তু মাস দেড়েক আগে দুই দেশের দুজন পর্যটকের সঙ্গে বিবাদের জেরে সেখানে আপাতত বিদেশি কোনো পর্যটক না রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে হোটেল কর্তৃপক্ষ। তবে ওই হোটেল ছাড়া আর কোথাও এমন ঘটনা ঘটেনি।

 

কলকাতার বাংলাদেশি অধ্যুষিত হোটেল পাড়া এলাকায় খোঁজ নিয়েও এ ধরনের কোনো ঘটনার কথা জানা যায়নি। বরং অস্ট্রেলিয়া-ভারতের ম্যাচ নিয়ে তৈরি হওয়া তুমুল চর্চায় ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন অনেকেই।

 

কলকাতায় যাওয়া বাংলাদেশি প্রকাশক মো. গফুর হোসেন সময় সংবাদকে বলেন, 

 

আমি তিন দিন ধরে কলকাতায় আছি। আমার মনে হয়নি এখানে কেউ বিদ্বেষমূলক আচরণ করছেন। এক শ্রেণির ফেসবুক ব্যবহারকারী এটা করছেন। কিন্তু এসব নিয়ে এত বাড়াবাড়ির কিছু আছে বলে আমি মনে করি না। কারণ ভারত আমাদের বন্ধু রাষ্ট্র।

 

আয়নুল হোসেন নামে আরেক প্রকাশক বললেন, 

 

কলকাতায় এসে আমি কারও কাছ থেকে বিরূপ কোনো আচরণ পাইনি। সবাই আগের মতোই বেশ বন্ধুসুলভ আচরণ করেছে। আর খেলার মতো বিষয় নিয়ে এত মাতামাতি না করাই ভালো। অনেকে এসব বিষয় নিয়ে কথা বাড়িয়ে এক ধরনের পরিস্থিতি তৈরির চেষ্টা করেন।  

 

স্থানীয় সাংবাদিক ও লেখক মো. সাদউদ্দিনের মতে, 

 

অস্ট্রেলিয়ার কাছে ভারত হেরে যাওয়ার পর বাংলাদেশি অনেক সমর্থক ঈদ উৎসবের মতো আনন্দ করেছে, যা নিন্দনীয়। তবে এটা পুরো বাংলাদেশের চালচিত্র ছিল না। এছাড়া লিগ পর্যায়ে বাংলাদেশের হারের পর ভারতেও অনেকে আনন্দ-উল্লাস করেছিল, তারই একটা প্রতিক্রিয়া বাংলাদেশে ঘটেছে। কিন্তু সামাজিক মাধ্যমে বাংলাদেশ ও ভারতের অনেকে যে ধরনের আচরণ করছেন, তা দুই দেশের পুরো জনগোষ্ঠীকে প্রতিনিধিত্ব করে না।  

 

কলকাতার শীর্ষস্থানীয় পরিবহন ব্যবসায়ীরা বলছেন, 

 

বাংলাদেশের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক এতটাই ভালো যে তাদের আমরা বিদেশি মনে করি না। বাংলাদেশি পর্যটকদের বয়কটের যে কথা বলা হচ্ছে তা পুরোপুরি গুজব। কিছু দুষ্ট লোক সব দেশেই আছে, যারা চায় না যে আমাদের মধ্যে সুসম্পর্ক থাকুক।

 

কলকাতায় বাংলাদেশি পর্যটক ছাড়া ব্যবসা চলবে কি না জানতে চাইলে তারা আরও বলেন, 

 

নিউমার্কেটসহ এর আশপাশের এলাকায় যত ব্যবসা তা বাংলাদেশি পর্যটকদের ওপর নির্ভর করেই টিকে আছে। তারা আসে বলেই এখানে ব্যবসাটা চলছে।   

 

ভারতে বেড়াতে আসা বিদেশি পর্যটকদের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের পর বাংলাদেশি পর্যটকদের অবস্থান। এই খাতে ভারতের অর্থনীতির বড় একটি অংশ নির্ভর করে পদ্মা পারের মানুষের ওপর। বিশেষ করে মধ্য কলকাতার কয়েক লাখ মানুষ সরাসরি বাংলাদেশি পর্যটকদের আসা-যাওয়ার ওপর নির্ভর করে সংসার চালান।

 

তাছাড়া একটি খেলার ফলকে কেন্দ্র করে এ ধরনের গুজব কিংবা বিদ্বেষমূলক প্রচারণাকারীদের আইনের আওতায় আনা উচিত বলেও মত সংশ্লিষ্টদের।

প্রবাসের খবর বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
সর্বশেষ
জনপ্রিয়