ঢাকা, ২০২৬-০৮-০১ | ১৬ শ্রাবণ,  ১৪৩৩

শিশু অধিকার ও নিরাপদ শৈশব নিশ্চিতের অঙ্গীকার নিয়ে

মিয়ানমারে শেখ রাসেল দিবস উদযাপন

প্রবাস নিউজ ডেস্ক :

প্রকাশিত: ০১:৫১, ১৯ অক্টোবর ২০২৩   আপডেট: ০১:৫৪, ১৯ অক্টোবর ২০২৩

শেখ রাসেল দিবস উদযাপন উপলক্ষে মিয়ানমারে বাংলাদেশ দূতাবাস কর্তৃক আয়োজিত সেমিনারে আমন্ত্রিত বক্তারা শিশু অধিকার ও নিরাপদ শৈশব নিশ্চিতের লক্ষ্যে সকল রাষ্ট্র এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দৃঢ় অঙ্গীকারের উপর গুরুত্ব প্রদান করেন। তারা ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট জাতির পিতাসহ তার পরিবারের সদস্যদের নির্মম হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদ জানান। 
বিশেষ করে জাতির পিতার কনিষ্ঠপুত্র ১০ বছরের শিশু শেখ রাসেলের উপর সংঘঠিত নির্মমতাকে মানবাধিকার তথা শিশু অধিকার হননের এক জঘন্য নিদর্শন বলে বক্তাগণ অভিহিত করেন। সেমিনারে মিয়ানমারের হেড অব লেডিগেশন নাদিয়া কৌড়ি প্রধান বক্তা ছিলেন। 
এছাড়াও দূতাবাসের প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ব্রিঃ জেঃ মোঃ আফতাব হোসাইন, ওয়াটার এইডের কান্ট্রেিডিরেক্টর শিহাব উদ্দিন আহমদ, জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ড. সৈয়দা আফসানা আমিন এবং শিশু অধিকার কর্মী প্রবীর রঞ্জন বিজন বিশি আলোচক হিসেবে বক্তব্য প্রদান করেন। 
মিয়ানমারে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত ড. মোঃ মনোয়ার হোসেন-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সেমিনারে মিয়ানমারে কর্মরত আন্তর্জাতিক সংস্থাসমূহের প্রতিনিধিগণ, দূতাবাসের কর্মকর্তা-কর্মচারীগণ ও বাংলাদেশ কম্যুনিটির সদস্যবৃন্দ অংশগ্রহণ করেন। 

রাষ্ট্রদূত ড. মোঃ মনোয়ার হোসেন তাঁর বক্তব্যে স্বাধীন বাংলাদেশের রুপকার, হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙ্গালী জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, বঙ্গমাতা ও শেখ রাসেল সহ ১৯৭৫ সালের কালরাতে নির্মমভাবে নিহত পরিবারের সকল শহিদের, মহান মুক্তিযুদ্ধের ৩০ লক্ষ শহিদের রুহের মাগফেরাত কামনা ও সকল মুক্তিযোদ্ধার প্রতি শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেন। রাষ্ট্রদূত জাতিসংঘের শিশু অধিকার সনদের বিভিন্ন অনুচ্ছেদ উল্লেখ করে শিশুদের অধিকার বাস্তবায়নের প্রয়োজনীয়তা ব্যাখ্যা করেন। তিনি আরো বলেন যে, শেখ রাসেলের হত্যাকান্ড মানবাধিকারের চরম লংঘন। শিশু শেখ রাসেলের অমিত সম্ভাবনা, আর্ত মানবতার সেবায় নিয়োজিত হওয়ার তীব্র আকাঙ্ক্ষা ও শিশুতোষ আচরণের স্মৃতিচারণ করে রাষ্ট্রদূত বলেন যে, শেখ রাসেল বেঁচে থাকলে বাংলাদেশ আজ জাতির পিতার মহান আদর্শে সোনার বাংলা গড়ার একজন সুদক্ষ কারিগর পেত। রাষ্ট্রদূত আশা প্রকাশ করেন আজকের দিনের শিশুরা শেখ রাসেলের অনুকরনে মানবিকতা ও সারল্য দিয়ে ভবিষ্যতের বাংলাদেশকে সুন্দর সম্ভাবনার পথ দেখাতে পারবে। একইসাথে রাষ্ট্রদূত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশের চলমান উন্নয়ন অভিযাত্রার কথা তুলে ধরে ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে প্রবাসী বাংলাদেশীসহ সকলের সঙ্গে একযোগে কাজ করার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

দূতাবাস প্রাঙ্গণে আয়োজিত অনুষ্ঠানমালায় ছিল শেখ রাসেলের প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ, দিবসটি উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর বাণী পাঠ, শেখ রাসেলের জীবনীর উপর নির্মিত প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন। অনুষ্ঠানের শেষভাগে শেখ রাসেলসহ ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট ঘাতকের বুলেটে নির্মমভাবে শাহাদতবরণকারী সকল শহিদদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করে দোয়া ও মোনাজাত করা হয়। দিবসটি উপলক্ষে আয়োজিত চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারী সকল শিশুদের মাঝে শুভেচ্ছা উপহার, বিজয়ীদের পুরস্কার ও সকলকে সনদ প্রদান করা হয়। সবশেষে রাষ্ট্রদূত শহীদ শেখ রাসেলের জন্মবার্ষিকী উপলক্ষ্যে শিশুদের সাথে নিয়ে কেক কাটেন।  

প্রবাসের খবর বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
সর্বশেষ
জনপ্রিয়