ঢাকা, ২০২৬-০৮-০১ | ১৬ শ্রাবণ,  ১৪৩৩

অনিয়মিত উপায়ে জার্মানিতে প্রবেশ, সীমান্তে আটক প্রায় ৭৪ হাজার

প্রবাস নিউজ ডেস্কঃ

প্রকাশিত: ২১:৫০, ১২ অক্টোবর ২০২৩  

প্রতিবেশী সীমান্তগুলো পাড়ি দিয়ে জার্মানিতে অনিয়মিত উপায়ে প্রবেশের সংখ্যা প্রতি মাসেই বেড়ে চলেছে। আঞ্চলিক নির্বাচনে অভিবাসনবিরোধী ডানপন্থিদের জনপ্রিয়তায় অনিয়মিত অভিবাসনের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবিও জোরালো হচ্ছে।

স্থলসীমান্ত দিয়ে ‘অবৈধ উপায়ে প্রবেশের দায়ে’ শুধু গত সেপ্টেম্বরে ১৮ হাজার ২৫১ জনকে গ্রেফতার করেছে জার্মানির আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। এই সংখ্যা জুলাইয়ের তুলনায় দ্বিগুণ আর আগস্টের চেয়ে প্রায় ৮০ শতাংশ বেশি। জুলাইতে ৮ হাজার ৬২ আর আগস্টে এই সংখ্যা ছিল ১১ হাজার ৯১৪ জন।

জার্মানির পার্লামেন্ট বুন্ডেসটাগে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ন্যান্সি ফেজার দেওয়া এই সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদনের সূত্রে এই তথ্য জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম বিল্ড।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, সেপ্টেম্বরে পোল্যান্ড সীমান্ত থেকে ৭ হাজার ৭৫ জনকে, অস্ট্রিয়া সীমান্ত থেকে ৪ হাজার ৫১৮ জনকে এবং চেক রিপাবলিক সীমান্ত থেকে ৪ হাজার ৮৩ জনকে আটক করেছে পুলিশ।

এছাড়া ৪ হাজার জনকে অনিয়মিত উপায়ে প্রবেশের দায়ে সমুদ্র সীমান্তগুলো থেকে আটক করা হয়েছে।

নিরাপত্তা বাহিনীর তথ্যসূত্রে বিল্ড জানিয়েছে, ২০২৩ সালে মোট ৭৩ হাজার ৯৮০ জনকে স্থল সীমান্তগুলো থেকে আটক করেছে ফেডারেল পুলিশ। এর মধ্যে ২৫ হাজার ৩৪২ জন প্রবেশ করেছেন পোল্যান্ড সীমান্ত দিয়ে। অস্ট্রিয়া সীমান্ত দিয়ে ১৭ হাজার ৩৪২ জন, চেক রিপাবলিক থেকে ১৪ হাজার ৬৪ জন, সুইজারল্যান্ড থেকে নয় হাজার ১১৯ জন প্রবেশ করেছেন বলে জানা গেছে। বাকিরা এসেছেন ফ্রান্স, বেলজিয়াম, নেদারল্যান্ডস, লুক্সেমবুর্গ, ডেনমার্ক সীমান্ত দিয়ে।

অভিবাসনবিরোধী ডানপন্থিদের জনপ্রিয়তায় উদ্বেগ

অনিয়মিত অভিবাসীদের সংখ্যা বাড়ার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে যেন জার্মানিতে অভিবাসনবিরোধী উগ্র-ডানপন্থি দল এএফডির জনপ্রিয়তাও বাড়ছে। বাভারিয়া ও হেসে রাজ্যের আঞ্চলিক নির্বাচনে তিনটি প্রধান রাজনৈতিক জোটের ফলাফলেই ধস নেমেছে। অন্যদিকে এএফডি আগের চেয়ে উল্লেখযোগ্য ভোট পেয়েছে।

অনিয়মিত অভিবাসীর সংখ্যা বাড়ার কারণে ডানপন্থিরা ক্রমশ জনপ্রিয় হচ্ছে বলে মনে করছেন সরকার ও বিরোধী রাজনীতিবিদদের অনেকে। এজন্য কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার চাপ বাড়ছে শলৎস সরকারের উপরে।

সংবাদপত্র বিল্ডকে জার্মানির রক্ষণশীল দল সিডিইউ-এর নেতা আলেক্সানডার থ্রম বলেন, ‘অনুমতিবিহীন প্রবেশ সেপ্টেম্বরে সব সীমা ছাড়িয়ে গেছে।’ তিনি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ন্যান্সি ফেজার সমালোচনা করে বলেন, ‘মন্ত্রী ফেজা এখনও সীমান্তে বাস্তব ও কার্যকর নিয়ন্ত্রণ আরোপের বিরোধিতা করে আসছেন।’

ডানপন্থিদের জনপ্রিয়তা বেড়ে চলায় চিন্তা বাড়ছে সরকারেও। মঙ্গলবার খোদ চ্যান্সেলর শলৎস বলেছেন, ‘ডানপন্থি পপুলিস্ট দলগুলোর যে ভোট পেয়েছে তাতে আমাদের উদ্বিগ্ন হওয়া উচিৎ।’

ভোটারদের আশ্বস্ত করার জন্য ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে যৌথ আশ্রয় নীতি গ্রহণের ওপর জোর দেন তিনি। বার্লিন দীর্ঘদিন ধরে ইউরোপীয় অংশীদারদের সঙ্গে এ নিয়ে কাজ করছে বলে জানান তিনি। ‘জার্মানিতে যারা আসছে (অনিয়মিত অভিবাসী) তার সংখ্যা অত্যধিক’, বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি।

এদিকে ক্ষমতাসীন জোটের সদস্য এসপিডি, গ্রিন ও এফডিপি বুধবার এক যৌথ বিবৃতিতে অভিবাসন নীতিতে নিজেদের ঐক্যের কথা জানিয়েছে। অভিবাসনের সীমা বেঁধে দিতে ও শৃঙ্খলা ফেরাতে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো সঙ্গে কাজ করছেন বলেও জানান তারা। যদিও অভিবাসীদের সংখ্যার সীমা বেঁধে দেওয়ার বিপক্ষে এতদিন অবস্থান ছিল গ্রিন পার্টির।

প্রবাসের খবর বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
সর্বশেষ
জনপ্রিয়