ভেনিসে ‘সিরাতে রাসুল’ সম্মেলন
প্রবাস নিউজ ডেস্কঃ
ইতালির ভেনিসে অভিবাসী আলেম-ওলামাদের উদ্যোগে শনিবার সন্ধ্যায় নবী মোহাম্মদ (স) এর জীবনীভিত্তিক সিরাতে রাসুল সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
দেশটির মেসত্রের মাদরাসাতুল ইত্তিহাদের হল রুমে সম্মেলনে বিষয়ভিত্তিক আলোচনা করেন, ভিচেন্সার আল জান্নাহ জামে মসজিদের খতিব মাওলানা শামসুল হুদা মাহবুব, মেসত্রে পুরান মসজিদের খতিব মুফতি আব্দুর রাজ্জাক, মাদরাসাতুল ইত্তিহাদের প্রতিষ্ঠাতা মাওলানা আরিফ মাহমুদ, ইয়েজলো জামে মসজিদের সাবেক খতিব মাওলানা জাকির হোসাইন ও মেসত্রে পুরান মসজিদের সাবেক ইমাম মাওলানা আব্দুল কাদের।
হাফেজ আবদুস সালাম ও আব্দুল আজিজের উপস্থাপনায় সিরাত সম্মেলনে কয়েকশ অভিবাসী মুসল্লি অংশ নেন। বাদ এশা সম্মেলন শেষ করা হয় এবং মুসল্লিদের মধ্যে তবারক বিতরণ করা হয়।
আসর নামাজের পর শুরু হওয়া সম্মেলন দুই পর্বে ভাগ করা হয়। দ্বিতীয় পর্বের শুরুতে বক্তব্য দেন মাদরাসাতুল ইত্তিহাদের প্রতিষ্ঠাতা মাওলানা আরিফ মাহমুদ।
নবী মোহাম্মদ (স) স্বামী হিসাবে কেমন ছিলেন, এ বিষয়ে মাওলানা আরিফ বলেন, নবী এমন এক সময়ে পৃথিবীতে এসেছিলেন, যখন নারীকে মানুষ বলে গণ্য করা হতো না। মেয়ে শিশুদের জীবিত মাটিচাপা দিয়ে মেরে ফেলা হতো। নারীর জন্মকে লজ্জাজনক মনে করা হতো। সেই সমাজে নবী যখন বলেন, নারীর অধিকার নিশ্চিত করতে হবে। তখন সবাই নবীকে নিয়ে হাসাহাসি করতো। তাদের কাছে ‘নারীর অধিকার’ কথাটা নতুন ছিলো। তারা মনে করতো- নারীর আবার অধিকার কী? নারী তো শুধুই ভোগ্যপণ্য।
সিরাত সম্মেলনের আলোচকরা বলেন, নবী কখনো স্ত্রীদের সঙ্গে খারাপ আচরণ করতেন না। গালমন্দ করতেন না। স্ত্রীরা রাগ করলে, ঝগড়া করলেও নবী তাদের বোঝাতেন। ভালোবাসা দিয়ে মন জয় করতেন। নবী তার পারিবারিক জীবন থেকে আমাদের শিক্ষা দিয়েছেন, সংসার সুখের করতে বেশি দায়িত্ব পুরুষকে পালন করতে হয়। পুরুষের ধর্য, শরিয়ত সম্মত উদারতা বেশি থাকতে হয়। কিন্তু নবীর উম্মতরা কথায় কথায় স্ত্রীদের ওপর রেগে যান, গালমন্দ করেন। স্ত্রীদের ছোট ছোট ভুলগুলোও ক্ষমা করতে পারেন না। প্রতিক্রিয়া দেখান। যা কোনোভাবেই প্রিয় নবীর শিক্ষা নয়।

আমাদের প্রিয় নবীর শিক্ষা হলো স্ত্রীদের ‘ভালোবাসা’ দিয়ে বোঝানো। ভুল হলে তাদের কাছে ‘দুঃখিত’ বলা। তাদের মূল্যায়ন করা। সম্মান রেখে কথা বলা। কিন্তু নবীর উম্মতরা মনে করেন, রাগ করার অধিকার শুধু স্বামীদের। স্বামীদের কোনো ভুল হয় না। স্বামীরা 'সরি' বলে না। যা প্রিয় নবীর শিক্ষার ঠিক বিপরীত।
আমাদের প্রিয় নবীর একজন স্ত্রী একবার রাগ করে তরকারির পেয়ালা ছুড়ে ফেলেছিলেন নবীর সামনে। প্রিয় নবী তার ওপর উল্টো রাগ দেখাননি। গালমন্দ করেননি। বরং তার মনের অবস্থা বোঝার চেষ্টা করেছিলেন। সঠিক মূল্যায়ন করেছিলেন। কিন্তু নবীর উম্মতরা মনে করেন, আমাদের নবীর স্ত্রীরা সারাক্ষণ ভয়ে ভয়ে থাকতেন। জি হুজুর, জি হুজুর করতেন। কিন্তু না, তারা স্বামী হিসাবে নবীর সাথে সাধারণ নারীদের মতোই আচরণ করতেন। রাগ করতেন। অভিমান করতেন। পরিমিত ঝগড়া করতেন। সম্মানের সঙ্গে সংসারও করতেন। বিপরীতে নবী প্রতিক্রিয়া না দেখিয়ে, তাদের মূল্যায়ন করতেন। ভালো কাজের প্রশংসা করতেন।
সুতরাং স্ত্রী, সন্তানদের সাথে কেমন আচরণ করতে হবে, তাদের কী কী অধিকার নিশ্চিত করতে হবে, তা প্রিয় নবী শুধু নছিহতই করেননি, নিজের জীবনে বাস্তবায়ন করে দেখিয়েছেন।
বক্তারা বলেন, পাশ্চত্যের এই ঘুনে ধরা সমাজে পারিবার ঠিক রাখতে হলে, পারিবারিকভাবে সুখি হতে হলে, সবাইকে নবীর সিরাত জানতে হবে এবং নিজের পরিবারে তা আবেদন করতে হবে। ভেনিসে এবারই প্রথম আলেমদের উদ্যোগে সিরাত সম্মেলন অনুষ্ঠিত হলো।
- সিআইপি হলেন মালয়েশিয়া প্রবাসী ব্যবসায়ী অহিদুর রহমান
- বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করতে
‘কানাডা-বাংলাদেশ পার্লামেন্টারি ফ্রেন্ডশিপ গ্রুপ’ গঠন - যুক্তরাষ্ট্রে হজরত ঈসার (আ.) জীবনী নিয়ে প্রতিযোগিতার আয়োজন
- নির্বাচন থেকে সরে দাড়ালেন বাইডেন
- নিউইয়র্কে সহকারী ডিসট্রিক্ট অ্যাটর্নি হলেন বাংলাদেশি চৈতি
- যুক্তরাজ্যের নতুন সরকারের মন্ত্রী হলেন টিউলিপ
- বাংলাদেশের অর্থনীতিতে প্রবাসী আয়ের গুরুত্ব
- মালদ্বীপে প্রবাসী বাংলাদেশিদের বৈধ হওয়ার সুবর্ণ সুযোগ!
- যুক্তরাজ্যে নো ভিসা ফি বৃদ্ধির প্রতিবাদে হাইকমিশনের বিবৃতি
- সিলেটে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের ৫৫ লাখ টাকা দিল স্পেন প্রবাসীরা








