‘তুফান’ এ উত্তাল বিখ্যাত মণিহার
প্রবাস নিউজ ডেস্কঃ
ঈদের ছুটিতে গ্রামের বাড়ি গিয়ে মনে পড়লো দেশের অন্যতম বৃহত্তম এবং ঐতিহ্যবাহী সিনেমা হল রয়েছে নিজ জেলায় কিন্তু একবার ঢু মেরেও দেখা হলো না! ভাবতে ভাবতেই পরিকল্পনা শাকিব খানের ‘তুফান’ দেখার। চাপাচাপি শিডিউলে ছুটিতে গিয়ে তুফানের টিকিট পাওয়াই যেন দায়! মোবাইলে স্ক্রল করতে করতে দেখা গেল অনলাইনে টিকিট আছে খুব সীমিত সংখ্যক। দেরি না করে চোখ বন্ধ করেই কেটে নিলাম ৪টি টিকিট।
যশোরের বিখ্যাত সিনেমা হলে শাকিবের সিনেমা ‘তুফান’-এর দাপট।
সন্ধ্যা সাড়ে ৬ টার শো। আমরা ছিলাম চারজন। সিনেমা হলের সামনে নেমে বেশ রিলাক্সে বাদাম কিনছি, এটা ওটা নিয়েই ভাবছি আস্তে ধীরে ভেতরে ঢুকবো; কিন্তু ওমা একি কাণ্ড! প্যাঁচানো সিঁড়ি দিয়ে উপরে উঠেই দেখি জায়গা ফাঁকা নেই। আমাদের বরাদ্দ করা সিটেও লোকজন বসে গেছে। যেসব সিট ফাঁকা আছে সেগুলোও ছন্নছাড়া! এখানে একটি তো ওখানে দুইটি।
৬ জনের একদল এসে একসঙ্গে, আমরা উনাদেরকে অনুরোধ করলাম দুইটি সিট ওপাশে গেলেই আমরা চারজন বসতে পারবো এক সারিতে। উনারা আমাদের জায়গা করে দিলেন। এরপর আমাদের মতো ভেতরের অবস্থা না বোঝা দলের সংখ্যা বাড়তে লাগলো। ১২ জনের একদল এসে কোনও কূলকিনারা না পেয়ে দাঁড়িয়েই রইলেন। বোঝা গেল ‘তুফান’-এর দাপট খুবই বেশি। কর্তৃপক্ষ বললো, ঈদের সময় বলে এমন অব্যবস্থাপনা হচ্ছে।
আমরা কোনও রকম বসলাম। পর মুহূর্তেই শুরু হলো টান টান উত্তেজনা! শিস বাজানোর শব্দে ভরপুর মণিহারের চারপাশ। বাংলা সিনেমার এতো উন্মাদনা না দেখলে বোঝা যাবে না। রায়হান রাফীর সিনেমার প্রতিটি সংলাপে, ব্যাকগ্রাউন্ড সাউন্ডে, সিনেমাটোগ্রাফী- সবটাতেই যেন দর্শককে বুঁদ করে রাখতে পেরেছে।
আর বড় আবিষ্কার শাকিব খানের বেলায়! যে মানুষটি অসংখ্য সিনেমা উপহার দিয়েছেন একই টাইপ লুকে। সেই মানুষটিকে কীভাবে এক তুড়িতে বদলে দিলেন নির্মাতা। এ যেন অনন্য এক শাকিব। কী তার অভিনয়! চলন বলন সবটাতেই চোখ আটকে গেছে। দর্শকদের বলতে শোনা যায়, শাকিব খান বেস্ট! আর চঞ্চল চৌধুরীর আগমনে সিনেমা হল কেঁপে উঠল মুহূর্তে। এক কথায় ‘তুফান’ মানুষের আবেগকে ধরতে পেরেছে।
আর গানের কথা বলাই বাহুল্য। প্রত্যেকটি গানই চিত্তাকর্ষক। ‘দুষ্টু কোকিল’ গানটি যখন চলছিল ওই মুহূর্তে হলে উপস্থিত দর্শকদের যে কলরব, উল্লাস; যে আবহ তৈরি হয়েছিল, তা লিখে বোঝানো সম্ভব নয়। আর ‘লাগে উরাধুরা’ গানটিতো সিনেমা মুক্তির আগে থেকেই ট্রেন্ডিংয়ে।
‘তুফান’ এ সব শিল্পী সেরাটা দিয়েই অভিনয় করেছেন। নাবিলার এত সহজ-সুন্দর, স্বাভাবিক অভিনয় দর্শকের নজর কেড়েছে। ফজলুর রহমান বাবু, মিশা সওদাগর, সালাউদ্দিন লাভলু প্রত্যেকেই দুর্দান্ত অভিনয় করেছেন। মিমি চক্রবর্তী ছিলেন বিশেষ আকর্ষণ। দুইটি গানেই তার প্রমাণ দেখিয়েছেন। বাংলা সিনেমার ইতিহাসে ‘তুফান’ মাইলফলক হয়ে গেল; এমনটাই মনে করছেন হলে যাওয়া দর্শকরা।
গত সোমবার (১৭ জুন) রায়হান রাফী পরিচালিত শাকিব খান অভিনীত ‘তুফান’ মুক্তি পায় সারা দেশে।
মণিহার সিনেমা হল যশোর জেলায় অবস্থিত বাংলাদেশের বৃহত্তম সিনেমা হল। ১৯৮৩ সালের ৮ ডিসেম্বর এটি প্রতিষ্ঠিত হয়। আধুনিক স্থাপত্যশৈলীর জন্য প্রতিষ্ঠার অল্প সময়ের মধ্যেই সিনেমা হলটি খ্যাতি অর্জন করে। জাপান, কোরিয়া, আফ্রিকা, অস্ট্রেলিয়া, রাশিয়া, ইংল্যান্ড প্রভৃতি দেশ থেকে নাকি চলচ্চিত্রপ্রেমীরা মণিহারে আসতেন চলচ্চিত্র দেখার জন্য। বাংলাদেশি চলচ্চিত্র শিল্পে মণিহার একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব বিস্তার করে আছে। ৪ বিঘা জমির ওপর প্রতিষ্ঠিত সিনেমা হলটির আসন সংখ্যা ১,৪০০। শিল্পী এসএম সুলতানের তত্ত্বাবধানে হলটির নির্মাণ পরবর্তী সাজসজ্জার কাজ সম্পন্ন হয়।
- এক জীবনে খুব বেশি চাইনি, মানুষের ভালোবাসা পেয়েছি: রাইসুল ইসলাম
- বাংলাদেশে একইদিনে চঞ্চল চৌধুরীর ‘পদাতিক’
- শাকিব খান একজন পাওয়ারফুল আর্টিস্ট: মিশা সওদাগর
- ইলিয়াস কাঞ্চনের অর্জনে আমি বেশি খুশি: ডলি জহুর
- বিশাল সুসংবাদ দিলেন শাকিব খান!
- ১২ গান নিয়ে নওশীন মনযূর-এ-খুদা
- ‘দরদ’ সিনেমায় রহস্যময় চরিত্রে শাকিব!
- ক্যানসারের সঙ্গে লড়েও কাজে অবিচল কিরণ খের
- ৪০০ কোটি টাকায় বাড়ি বিক্রি করলেন ব্র্যাড পিট
- দীর্ঘ ট্রাফিক জ্যাম, সঙ্গে গরম—মেট্রো ধরলেন হৃতিক








